প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার গত মাসে ১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে একটি পরামর্শ, জনমত সংগ্রহ শুরু করেছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই, কয়েক মাসের মধ্যেই আইন সংশোধন করে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার লক্ষ্য সরকারের।

এআই দিয়ে তৈরি কল্পিত ছবি।
শেষ আপডেট: 16 February 2026 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৬ বছরের নীচে শিশুদের জন্য পুরোপুরি সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার পথে দ্রুত এগতে চলেছে ব্রিটেন। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা বিধির বাইরে থাকা কিছু এআই চ্যাটবটের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনাও করছে ব্রিটিশ সরকার। অস্ট্রেলিয়ার মতো মডেল অনুসরণ করে এ বছরই এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার গত মাসে ১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে একটি পরামর্শ, জনমত সংগ্রহ শুরু করেছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই, কয়েক মাসের মধ্যেই আইন সংশোধন করে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার লক্ষ্য সরকারের। এর ফলে ডিজিটাল ঝুঁকির মোকাবিলায় সরকার আরও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই স্পেন, গ্রিস ও স্লোভেনিয়া একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আনার কথা জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের নীচে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বেড়েছে, বিশেষ করে ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট গ্রোক থেকে অনুমতি ছাড়া যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি তৈরি হওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর।
ব্রিটেনের ২০২৩ সালের অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট বিশ্বের অন্যতম কড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হলেও, সেখানে একটি বড় ফাঁক রয়ে গিয়েছে। এই আইনের আওতায় একান্তভাবে এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথন পড়ে না, যতক্ষণ না সেই তথ্য অন্য ব্যবহারকারীর সঙ্গে ভাগ করা হয়। প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল জানিয়েছেন, এই ফাঁক খুব শিগগিরই বন্ধ করা হবে। টাইমস রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্ডাল বলেন, শিশু ও কিশোরদের ওপর এআই চ্যাটবটের প্রভাব নিয়ে তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী দু’জনেই উদ্বিগ্ন। অনেক শিশু এমন এআই সিস্টেমের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলছে, যেগুলো আদৌ শিশুদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়নি। তিনি আরও জানান, জুনের আগেই সরকার তাদের প্রস্তাবের খসড়া প্রকাশ করবে। পাশাপাশি, ব্রিটিশ আইনের সঙ্গে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর সব সিস্টেমকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দায়িত্বও তাদেরই নিতে হবে বলে স্পষ্ট করেছেন কেন্ডাল।
সরকার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চলেছে। কোনও শিশুর মৃত্যু হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনলাইন ডেটা সংরক্ষণের নির্দেশ জারি করা। এতে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ সহজেই সুরক্ষিত করতে পারবেন। দীর্ঘদিন ধরে শোকাহত পরিবারগুলি এই ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিল। এছাড়া, গেমিং কনসোলে ‘স্ট্রেঞ্জার পেয়ারিং’ বা অচেনা মানুষের সঙ্গে জুড়ে যাওয়ার সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করা এবং নগ্ন ছবি পাঠানো বা গ্রহণ বন্ধ করার ক্ষমতাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
এই নতুন সব বিধান ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আলোচনাধীন অপরাধ ও শিশু-সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনের সংশোধনী হিসেবে আনা হবে। যদিও উদ্দেশ্য শিশুদের রক্ষা করা, তবুও এর প্রভাব পড়তে পারে প্রাপ্তবয়স্কদের গোপনীয়তা ও ডিজিটাল পরিষেবায় প্রবেশাধিকারের উপর। এমনকী এই নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে মতভেদও তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে মুক্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে। বর্তমানে বেশ কিছু বড় পর্নোগ্রাফি সাইট বয়স যাচাইয়ের ঝামেলা এড়াতে ব্রিটিশ ব্যবহারকারীদের জন্য পরিষেবা বন্ধ রেখেছে। যদিও সহজলভ্য ভিপিএন ব্যবহার করে এই নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটানো সম্ভব। সরকার এখন ভাবছে, নাবালকদের ক্ষেত্রে ভিপিএন ব্যবহারের উপরও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা যায় কি না।
অনেক অভিভাবক ও শিশু-নিরাপত্তা সংগঠন সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করলেও, কিছু সংগঠনের আশঙ্কা— এতে বিপজ্জনক কার্যকলাপ আরও খোলামেলা জায়গায় সরে যেতে পারে, অথবা ১৬ বছরে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে একটি হঠাৎ ‘ক্লিফ এজ’ তৈরি হতে পারে। কেন্ডাল জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আগে আইনগতভাবে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হবে, তা স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা জরুরি।