Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

যুদ্ধ দফতরের নাম বদলে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’ ফিরলে খরচ ১২৫ মিলিয়ন ডলার

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে একটি নির্বাহী নির্দেশে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ নাম ব্যবহারের অনুমোদন দেন ট্রাম্প।

যুদ্ধ দফতরের নাম বদলে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’ ফিরলে খরচ ১২৫ মিলিয়ন ডলার

ডোনাল্ড ট্রাম্প

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 15 January 2026 14:15

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স’-এর (Department of defence) বদলে আবার ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’— ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) এই নামফেরানো উদ্যোগ মার্কিন করদাতাদের কতটা ভারী মূল্য দিতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের খরচ কয়েক মিলিয়ন ডলার থেকে শুরু করে ১২৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। সবটাই নির্ভর করছে পেন্টাগন কতটা দ্রুত এবং কত ব্যাপক ভাবে এই নাম পরিবর্তন কার্যকর করতে চায় তার উপর।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে একটি নির্বাহী নির্দেশে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ নাম ব্যবহারের অনুমোদন দেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই নাম দেশের পক্ষে ‘যুদ্ধ করার এবং জয়ের মানসিক প্রস্তুতি’কে তুলে ধরবে। কিন্তু সিবিও জানাচ্ছে, নির্দেশ কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে পেন্টাগনের তরফে এখনও স্পষ্ট কোনও রূপরেখা না থাকায় খরচের অঙ্ক নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সিবিও-র হাতে আসা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কম্পট্রোলারের একটি সীমিত ব্যয় রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই পাঁচটি ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট সংস্থা প্রায় ১৯ লক্ষ ডলার খরচ করেছে। নতুন পতাকা, ফলক, প্রশিক্ষণ সামগ্রী বদলের মতো খাতে এই টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে এই হিসেব মাত্র ৩০ দিনের এবং বহু দফতর এর বাইরে থাকায় প্রকৃত খরচ এর চেয়ে অনেক বেশি বলেই মনে করছে সিবিও।

সংবিধান অনুযায়ী, ক্যাবিনেট স্তরের কোনও দফতরের নামকরণ বা পরিবর্তনের ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের। ফলে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ আপাতত একটি গৌণ নাম হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। তবু প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই নামকে জোরালো ভাবে ব্যবহার করছেন। তাঁর দাবি, এতে ‘ফাইট-টু-উইন’ মানসিকতা আরও স্পষ্ট হবে। যদিও প্রশাসনের তরফে কংগ্রেসে এখনও আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তনের কোনও প্রস্তাব পেশ করা হয়নি।

সিবিও-র হিসেব অনুযায়ী, যদি পরিবর্তন সীমিত ভাবে শুধু প্রতিরক্ষা সচিবের দফতর ঘিরে হয়, তবে খরচ হতে পারে প্রায় ১ কোটি ডলার। মূলত কর্মীদের সময়, প্রশাসনিক নথি, লেটারহেড, ওয়েবসাইট এবং আনুষ্ঠানিক সামগ্রী বদলাতেই এই টাকা লাগবে। ধীরে ধীরে পরিবর্তন হলে ব্যয় আরও কমতে পারে। কিন্তু প্রতিরক্ষা দফতরের সব সংস্থায় একযোগে এবং দ্রুত এই নাম চালু করা হলে খরচ ১২৫ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সিবিও।

এই অনিশ্চয়তার মূল কারণ হিসেবে পেন্টাগনের নীরবতাকেই দায়ী করেছেন সিবিও-র ডিরেক্টর ফিলিপ স্বাগেল। মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাট সেনেটরদের পাঠানো এক চিঠিতে তিনি জানান, নির্দেশ কার্যকর করার কোনও বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রতিরক্ষা দফতর এখনও জানায়নি।

ওরেগনের সেনেটর জেফ মার্কলি, যিনি সেনেট বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট, এই বিশ্লেষণ চেয়ে ছিলেন। তাঁর মন্তব্য, “মুদিখানা বা স্বাস্থ্যখরচ কমানোর বদলে ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্সের নাম বদলের মতো। অহংকারপ্রসূত প্রকল্পে মন দিয়েছেন। এর খেসারত দিতে হতে পারে মার্কিন করদাতাদের ১২৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্তএটা লোকদেখানো শাসন, যার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা বা সেনা পরিবারের কোনও বাস্তব উপকারের যোগ নেই।”

পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট অফিস এই নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সিবিও তাদের বিশ্লেষণে আগের নামবদলের অভিজ্ঞতার কথাও টেনেছে। বিশেষ করে বাইডেন প্রশাসনের আমলে কনফেডারেট নাম সরিয়ে মার্কিন সেনাঘাঁটির নাম পরিবর্তনের প্রকল্প। শুরুতে যেখানে নয়টি ঘাঁটির জন্য ২১ মিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছিল, পরে সেনাবাহিনী সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ৩৯ মিলিয়ন ডলার করে। সিবিও-র মতে, শেষ পর্যন্ত প্রতি ঘাঁটিতে গড়ে প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল।

কংগ্রেস যদি আইন এনে দফতরের নাম আনুষ্ঠানিক ভাবে বদলে দেয়, তা হলে ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে সিবিও। সেক্ষেত্রে চুক্তি, নিয়মাবলি, সাইনবোর্ড— সব কিছু একসঙ্গে বদলাতে গেলে মোট খরচ ‘শত শত মিলিয়ন ডলার’-এ পৌঁছতে পারে। নাম বদলের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কোন পথে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।


```