বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্প্রচারই এখনও পর্যন্ত ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তেহরানের সবচেয়ে প্রকাশ্য এবং সরাসরি হুমকি। এমন এক সময়ে এই বার্তা এল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে বলে জল্পনা চলছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 15 January 2026 10:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াশিংটন ও তেহরানের (US Iran Conflict) মধ্যে চলতে থাকা উত্তেজনার আবহে এবার নতুন করে সংঘাতের আগুনে ঘি ঢালল ইরান। সে দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে (Iran State TV) সম্প্রচারিত একটি বার্তা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সেই সম্প্রচারে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) লক্ষ্য করে হুমকির সুর শোনা গিয়েছে বলে দাবি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেখানো হয় ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পের নির্বাচনী সভায় হামলার (Attack on US President Donald Trump) একটি ছবি। সেই ঘটনার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ট্রাম্প। ওই ছবির সঙ্গেই সম্প্রচারিত হয় একটি ভয়াবহ বার্তা - 'এবার গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না।'
বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্প্রচারই এখনও পর্যন্ত ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তেহরানের সবচেয়ে প্রকাশ্য এবং সরাসরি হুমকি। এমন এক সময়ে এই বার্তা এল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের (Iran) বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে বলে জল্পনা চলছে। ইরানের তরফে বরাবরই অভিযোগ, দেশের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভকে হাতিয়ার করে আমেরিকা হস্তক্ষেপের অজুহাত খুঁজছে।
যদিও এই সম্প্রচার নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইরানের সরকারি স্তরে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ওই ছবি এবং বক্তব্য যে ২০২৪ সালের হত্যাচেষ্টার দিকেই ইঙ্গিত, তা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
এই ঘটনার মাঝেই খবর, আরব দুনিয়ার একাধিক ঘাঁটি থেকে সেনা সরানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (US Army)। ইরানের তরফে আবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের জুনে কাতারের দোহা সংলগ্ন আল উদেইদ এয়ারবেসে চালানো তাদের প্রতিশোধমূলক হামলার কথা।
এদিকে মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যদি বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোর হয়, তবে আমেরিকা ‘খুব শক্ত’ পদক্ষেপ করবে। তাঁর কথায়, “হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হলে, কিংবা ফাঁসি দেওয়া হলে, তার পরিণতি কী হবে, তা আমরা দেখব।”
ইরানের প্রশাসন এই মন্তব্যকে সামরিক হস্তক্ষেপের ছুতো বলেই উড়িয়ে দিয়েছে। তবে দেশের ভিতরে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তেহরানের একাধিক এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া মোতায়েন চলছে এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ অব্যাহত।
গত ডিসেম্বর মাসে ইরানি মুদ্রার ভয়াবহ পতনের পর থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ-র তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৬০০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার হয়েছেন ১৮ হাজার ৪০০-র বেশি মানুষ।
বুধবার বিক্ষোভে নিহত ১০০ জন নিরাপত্তাকর্মীর জন্য রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করে ইরান সরকার। সেখানে কয়েক হাজার মানুষ হাজির ছিলেন। জাতীয় পতাকা ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবি হাতে ভিড় জমায় জনতা।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পকে ঘিরে এই হুমকির বার্তা ইরান-আমেরিকা সংঘাতে নতুন ও বিপজ্জনক অধ্যায় খুলে দিল বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।