এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকায় ভারতীয় পেশাজীবীদের সংখ্যা বাড়ছে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ - ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করছে বহু মার্কিন সংস্থা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 15 January 2026 08:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় ভারতীয় চাকরিজীবী ও ভারতীয় মালিকানাধীন ব্যবসার (Indian Workers and Businesses) বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও শত্রুতার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ। আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের (Donald Trump) আমলে এইচ-১বি ভিসা (H1B Visa) ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পর থেকেই এই পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে এইচ-১বি ভিসা (H1B Visa) নীতিতে যে সংশোধন আনা হয়েছে, তাতে আবেদনকারীদের জন্য আবেদনমূল্য এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ডলার। পাশাপাশি চালু হয়েছে মজুরি-ভিত্তিক বাছাই পদ্ধতি, যেখানে তুলনামূলক বেশি বেতনের চাকরির জন্য আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য ‘আমেরিকান কর্মীদের সুরক্ষা’।
আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে এই কড়াকড়ি আরও বাড়বে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ তখন মূলত সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত, অর্থাৎ লেভেল-ফোর এইচ-১বি আবেদনকারীদেরই অগ্রাধিকার দিতে পারে। ফলে বহু দক্ষ অভিবাসীর পক্ষেই এই ভিসা পাওয়া কার্যত আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা।
এই নীতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সমাজের নানা স্তরে। ফেডএক্স (FedX), ওয়ালমার্ট (Walmart) ও ভেরাইজনের মতো একাধিক বড় মার্কিন সংস্থা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণের মুখে পড়েছে। অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তারা নাকি বেআইনিভাবে ভারতীয় কর্মীদের ‘চাকরি বিক্রি’ করছে।
সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট-এর নির্বাহী পরিচালক রাকিব নায়েকের দাবি, এই আক্রমণের অনেকটাই সংগঠিত। তাঁর কথায়, সরকারি সহায়তায় ঋণ পাওয়া ভারতীয়-মার্কিন উদ্যোক্তাদেরও পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। ভারতীয়দের ‘চাকরি চোর’ বা ‘ভিসা প্রতারক’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
পরিসংখ্যানও সেই ছবিই তুলে ধরছে। ‘স্টপ এএপিআই হেট’ এবং সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা মুনশট-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর মাসে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে হিংসার হুমকি বেড়েছে ১২ শতাংশ। একই সময়ে অনলাইনে গালিগালাজ ও বিদ্বেষমূলক শব্দ ব্যবহারের হার বেড়েছে ৬৯ শতাংশ।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকায় ভারতীয় পেশাজীবীদের সংখ্যা বাড়ছে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ - ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করছে বহু মার্কিন সংস্থা।
ক্রিসমাসের আগে ফেডএক্স সংক্রান্ত একটি ভাইরাল ভিডিও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ক্ষতিগ্রস্ত ফেডএক্স ট্রাকের সেই ভিডিও ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সংস্থার ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইও রাজ সুব্রহ্মণ্যমকে সরাসরি আক্রমণ করা হয়। কিছু পোস্টে প্রকাশ্যে ভারতীয়দের ‘আমেরিকান কোম্পানি দখল’ করার অভিযোগ তোলা হয়।
ডানপন্থী একাধিক ভাষ্যকার দাবি করেন, শ্বেতাঙ্গ কর্মীদের ছাঁটাই করে ভারতীয়দের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যদিও ফেডএক্স এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে। সংস্থার বক্তব্য, নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্পোরেট দুনিয়ায় ডিইআই (ডাইভার্সিটি, ইকুইটি অ্যান্ড ইনক্লুশন) কর্মসূচি গুটিয়ে নেওয়া, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং রাজনৈতিক ভাষ্য—সব মিলিয়ে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে ভারতীয় পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীরা ক্রমশ আলাদা করে টার্গেট হচ্ছেন।