Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: ‘তাহলে আমার তত্ত্ব ভুল ছিল না!’ বৈভবের বিরল ব্যর্থতা দেখে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ইরফানের I PAC: ৫০ কোটির বেআইনি লেনদেন, আই প্যাক ডিরেক্টর ভিনেশের বিরুদ্ধে ৬ বিস্ফোরক অভিযোগ ইডিরWest Bengal Election 2026 | ‘৫০-আসন জিতে তৃণমূলকে ১৫০-আসনে হারাব’ মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর কয়েক মিনিটের ফোনকল, ৪৮ ঘণ্টা পরই হামলায় নিহত খামেনেই, কী কথা হয়েছিল দু'জনের?

ট্রাম্প প্রশাসন আগেই আরব দুনিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছিল। ইরানের (Iran War) পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ব্যর্থতার পরও ট্রাম্প দ্বিতীয় হামলার কথা ভাবছিলেন। জুন মাসে প্রথম হামলায় ইজরায়েল একাই ইরানের বহু ঘাঁটি নষ্ট করলেও তাতে নেতানিয়াহু সন্তুষ্ট ছিলেন না।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর কয়েক মিনিটের ফোনকল, ৪৮ ঘণ্টা পরই হামলায় নিহত খামেনেই, কী কথা হয়েছিল দু'জনের?

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপ

অর্পিতা দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: 24 March 2026 08:22

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Israeli President Benjamin Netanyahu) একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনকলের পর মাত্র দু'দিনের মধ্যেই ইরানে ভয়াবহ সামরিক হামলা শুরু হয়- এমনই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে (Iran Supreme Leader Ayatollah Ali Khamenei) হত্যার 'সুযোগ' তৈরি হয়েছে- এই যুক্তি দেখিয়ে ইজরায়েল নাকি ট্রাম্পকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছিল।

কী ছিল সেই ফোনকলে?

নতুন তথ্য অনুযায়ী, খামেনেই তাঁর শীর্ষ সহযোগীদের সঙ্গে তেহরানে (Tehran) একটি বৈঠকের সময়সূচি এগিয়ে আনেন। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেন, “এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর আসবে না।” তিনি দাবি করেন, খামেনেইকে হত্যা করা গেলে ট্রাম্প ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারবেন। এমনকি খামেনেই নাকি আগেও ট্রাম্পকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, এই যুক্তিও তোলা হয় ফোনালাপের সময়। তখনই ট্রাম্পকে বলা হয়, এটি হবে 'ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক', অর্থাৎ শীর্ষ নেতৃত্বকে সরাসরি লক্ষ্য করে আঘাত।

ট্রাম্পের প্রস্তুতি আগে থেকেই চলছিল

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন আগেই আরব দুনিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছিল। ইরানের (Iran War) পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ব্যর্থতার পরও ট্রাম্প দ্বিতীয় হামলার কথা ভাবছিলেন। জুন মাসে প্রথম হামলায় ইজরায়েল একাই ইরানের বহু ঘাঁটি নষ্ট করলেও তাতে নেতানিয়াহু সন্তুষ্ট ছিলেন না। ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় মিটিংয়ের সময় নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প আরও দ্রুত বাড়ছে।

দুটি ঘটনার পর ট্রাম্পের মন বদল

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ট্রাম্পকে দ্বিতীয় হামলার দিকে ঠেলে দেয়। সেগুলি ছিল-

ভেনেজুয়েলা অভিযান- যেখানে মার্কিন বাহিনী কোনও ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বড়সড় অভিযান সফল করে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে বন্দি বানানো হয়।

ইরানে গণবিক্ষোভ- যা দমন করতে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে ইরান।

এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েল–মার্কিন সেনাবাহিনীর গোপন যৌথ পরিকল্পনা শুরু হয়।

শেষ সিদ্ধান্ত: ২৭ ফেব্রুয়ারি

২৪ ফেব্রুয়ারি মার্কো রুবিও গোপন (Marco Rubio) বৈঠকে বলেন, ইজরায়েল যে কোনওভাবেই হামলা করবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যোগ দিতে পারে। এতে মার্কিন গোয়েন্দারা সতর্ক করে দেন, ইরান পাল্টা হামলা করলে মার্কিন ঘাঁটি ও তাদের বন্ধুরা লক্ষ্যবস্তু হবে। তবে এই দীর্ঘ আলোচনার পরই ২৭ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-র নির্দেশ দেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি- প্রথম বোমাবর্ষণ

শনিবার সকালে প্রথম বিস্ফোরণটি হয় ইরানে। সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা করেন, “খামেনেই নিহত।” হোয়াইট হাউস পরে জানায়, আমাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প ধ্বংস, নৌ–ক্ষমতা শেষ করে দেওয়া, প্রক্সি শক্তিকে দুর্বল করা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়া থেকে চিরতরে বিরত রাখা।

ইজরায়েলের অস্বীকার, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়

নেতানিয়াহু পরে দাবি করেন, “ইজরায়েল আমেরিকাকে টেনে আনেনি।” ট্রাম্পও বলেন, হামলার সিদ্ধান্ত ছিল তাঁর নিজের। কিন্তু রয়টার্সের তথ্যে ইঙ্গিত, নেতানিয়াহুর বক্তব্য, গোয়েন্দা তথ্য এবং খামেনেইকে হত্যার সুযোগ- এই সব মিলেই ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছিল।

তারপরের পরিস্থিতি

  • ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়
  • একাধিক মার্কিন সেনার মৃত্যু
    ২ হাজার ৩০০–র বেশি ইরানি নাগরিক নিহত
  • উপসাগরজুড়ে হামলা, শিপিং রুট বন্ধ
  • বিশ্ববাজারে তেল–মূল্য রেকর্ড বৃদ্ধি
  • দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা, সেনার কড়া নজরদারি। 

উল্লেখ্য, খামেনেইর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন। দেশের উদ্দেশে প্রথম বার্তা দিলেও এখনও সকলের অলক্ষ্যেই আছেন তিনি। 


```