ট্রাম্প সোমবার বলেন, গত দুই দিনে তেহরানের সঙ্গে 'খুব ভাল ও ফলপ্রসূ' আলোচনার পর তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সব হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতা করতে চায় পাকিস্তান!
শেষ আপডেট: 24 March 2026 07:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের চলমান সংঘাত (Iran US Israel War) থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে চাই পাকিস্তান (Asim Munir)। এ ব্যাপারে অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনির। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের (US President Donald Trump) সঙ্গে সোমবার বেশি রাতে তার দীর্ঘ সময় টেলিফোনে কথা হয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একই বিষয়ে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসাউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে। যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তান সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করতে প্রস্তুত বলে আমেরিকা ও ইরানের প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন যথাক্রমে পাক সেনাপ্রধান এবং সে দেশের প্রধানমন্ত্রী।
ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, সোমবার বেশি রাতে পাক সেনাপ্রধান ফোন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সুসম্পর্কের কথা সকলেরই জানা। এর আগে তিনবার হোয়াইট হাউজে আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক হয় মার্কিন প্রেসিডেন্টের। অন্যদিকে ইরানের বর্তমান কর্তাদের সঙ্গেও পাক সেনাপ্রধানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলের খবর।
জানা গিয়েছে, ট্রাম্পকে ফোন করার আগে পাক সেনাপ্রধান সোমবার বাহিনীর উদ্দেশ্যের দীর্ঘ বক্তৃতা করেন। সোমবার ছিল পাকিস্তান দিবস। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরের বৈঠকে মুসলিমদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবি পেশ করেছিলেন মুসলিম লিগের প্রভাবশালী নেতা মহম্মদ আলি জিন্নাহ। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির দিনটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনীকে বলেন বর্তমান বিশ্বে চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তানকে উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। সেই বৈঠকেই তিনি ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। যদিও পাকিস্তানের ঘোর বিরোধী ইজরায়েল এই ধরনের কোন তৎপরতায় আগ্রহ দেখাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রস্তাবে যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে ফিনান্সিয়াল টাইমসের খবর। সংবাদপত্রটি জানিয়েছে ইরানি আধিকারিকদের সঙ্গে হোয়াইট হাউজের কর্তাদের একটি বৈঠক হতে পারে পাকিস্তানের কোন শহরে। সেখানেই দু'দেশের মধ্যে চলমান বিবাদ মীমাংসায় বিস্তারিত কথা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইরান এই প্রস্তাবে কতটা রাজি হবে সংশয় আছে তা নিয়েও।
চলতি যুদ্ধে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি পাকিস্তানও সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। তবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে চাওয়ার পেছনে মূল কারণ অর্থনৈতিক নয়। ইরানের মত পাকিস্তানও শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। ইসলামাবাদের কর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চললেও ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল -আমেরিকার যৌথ হামলার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ হয়েছে পাকিস্তানে। করাচিতে আমেরিকার কনসাল অফিস ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা ও পুলিশকে গুলি চালাতে হয়। তাতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। চরম আর্থিক দুর্দশ এর মধ্যে থাকা দেশটি ইরানের জন্য অর্থ সাহায্য তুলছে জনসাধারণের কাছ থেকে। মনে করা হচ্ছে দেশবাসীর এই সেন্টিমেন্টকে মর্যাদা দিতেই যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে আগ্রহী পাকিস্তান।
গত বছর মুনির ট্রাম্পের সঙ্গে দু’বার সাক্ষাৎ করেন—প্রথমটি জুনে এবং পরে সেপ্টেম্বরে। দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারের সময়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
এদিকে, পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী ইশাক দার সোমবার ইরানের বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাগাছির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
দু’জন সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। ওই আলোচনায় পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী 'সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যাতে দ্রুত শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা যায়। পরে পাক বিদেশ মন্ত্রীর দপ্তর থেকে এক্সে জানানো হয়, পরিস্থিতির অগ্রগতির বিষয়ে উভয় পক্ষ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্প সোমবার বলেন, গত দুই দিনে তেহরানের সঙ্গে 'খুব ভাল ও ফলপ্রসূ' আলোচনার পর তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সব হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তেই থাকে। এতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিও রয়েছেন।
তেহরান পাল্টা হিসেবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা ইজরায়েলের পাশাপাশি জর্ডন, ইরাক, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব সহ আরব দুনিয়ার দেশগুলিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলিকেও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে।