উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করা হলেও, তাঁর ঘোষণার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য দেওয়া সময়সীমা পাঁচ দিন বাড়ানোর ঘটনাকে ইরান নিজেদের অবস্থানের জয় হিসেবেই তুলে ধরছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 23 March 2026 17:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার সংঘাত (Middle East Tension) নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যে দাবি করেছে তা খারিজ করল ইরান (US Iran Relation)। আমেরিকার সঙ্গে কোনও গোপন আলোচনাই হয়নি - এমনই তাঁদের। ট্রাম্প যেখানে দাবি করেছিলেন, গত দু’দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে, সেখানে তেহরানের বক্তব্য, এমন কোনও কথাবার্তাই হয়নি।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানানো হয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে কোনও সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগই হয়নি। একই সঙ্গে কড়া ভাষায় পাল্টা বার্তা দিয়েছে ইরানের কূটনৈতিক মহল। ইরানের দূতাবাস এক বার্তায় জানায়, ইরানের দৃঢ় হুঁশিয়ারির মুখেই শেষ পর্যন্ত হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে আমেরিকা। এক কথায়, ইরানের ভয়ে পিছু হটেছেন ট্রাম্প।
এই বার্তায় স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা হলে গোটা অঞ্চলের জ্বালানি ব্যবস্থাকে নিশানা করা হবে - এই সতর্কবার্তার পরেই ট্রাম্প পিছিয়ে যান। ইরানের দৃষ্টিতে, এই অবস্থান বদল কোনও কূটনৈতিক সাফল্য নয়, বরং চাপের মুখে আমেরিকার সরে আসা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করা হলেও, তাঁর ঘোষণার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য দেওয়া সময়সীমা পাঁচ দিন বাড়ানোর ঘটনাকে ইরান নিজেদের অবস্থানের জয় হিসেবেই তুলে ধরছে।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রগুলিতে হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। তাঁর দাবি ছিল, আলোচনা ইতিবাচক হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে না গেলে আবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এই ঘটনার ঠিক আগে আমেরিকার তরফে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া হয়। তার পাল্টা জবাবে ইরান জানায়, তাদের পরিকাঠামোয় আঘাত এলে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় তার প্রতিক্রিয়া পড়বে।
বিশ্ব জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরেই এখন সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ। এই পথ বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও জটিল আকার নিচ্ছে।