আরব দুনিয়ায় টানটান উত্তেজনার আবহে (Middle East crisis) ওয়াশিংটন এখনও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা খোলা রাখছে।

শেষ আপডেট: 23 January 2026 07:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানকে ঘিরে নতুন করে কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি জানান, “একটি বড় নৌবহর” ইরানের দিকেই এগোচ্ছে (US fleet to Middle East)। যদিও একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, তাঁর আশা, এই সামরিক শক্তি যেন ব্যবহার করতে না হয় (Trump Iran warning)।
আরব দুনিয়ায় টানটান উত্তেজনার আবহে (Middle East crisis) ওয়াশিংটন এখনও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা খোলা রাখছে। গত কয়েক মাস ধরে ইরানে চলা বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের (Iran tensions) প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসনের নজর সেদিকেই। ট্রাম্প বলেন, “ওই দিকে আমাদের বড় নৌবহর (US Navy fleet) এগোচ্ছে। কী হয় দেখা যাক। আমরা খুব কাছ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমি চাই না কিছু ঘটুক।”
সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময়ে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে ট্রাম্প বারবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক দিনে তাঁর সুর কিছুটা নরম হয়েছে, কারণ বিক্ষোভ কমেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
‘৮৩৭ জনের ফাঁসি রুখেছি’ — ট্রাম্পের দাবি
এদিন ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন চাপের জেরেই ইরান কয়েকশো বিক্ষোভকারীকে ফাঁসি দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছে।
তাঁর কথায়, “বৃহস্পতিবার আমি ৮৩৭ জনের ফাঁসি রুখেছি। ওরা সবাই মারা যেতে পারত। প্রত্যেককেই ফাঁসিতে ঝোলানো হত।” এই সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ডকে তিনি “হাজার বছর আগের বর্বরতা” বলে বর্ণনা করেন।
ট্রাম্পের দাবি, যাঁদের ফাঁসি দেওয়ার কথা ছিল, তাঁদের বেশিরভাগই তরুণ। তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম, যদি ওদের ফাঁসি দাও, তাহলে এমন আঘাত করা হবে যা তোমরা আগে কখনও দেখোনি। তোমাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যা করেছি, তার তুলনায় সেটা কিছুই নয়।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে তা বাতিল করা হয়। “ওরা শুধু স্থগিত করেনি, বাতিল করেছে, এটাই ভাল লক্ষণ,” যোগ করেন তিনি।
আরব দুনিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর জোরদার উপস্থিতি
রয়টার্সের প্রতিবেদনে মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ-সহ আরও সামরিক শক্তি আরব দুনিয়ায় পৌঁছবে।
গত সপ্তাহ থেকেই এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুদ্ধজাহাজ, ফাইটার জেট এবং ডেস্ট্রয়ার-সহ মার্কিন নৌবহর সরে আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln।
এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, অতিরিক্ত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বুধবার দাভোসে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি চান না নতুন করে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ নিতে হোক। তবে ইরান যদি আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করে, তাহলে আমেরিকা চুপ করে থাকবে না। তাঁর সাফ কথা, “ওরা পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করলে আবারও আগের মতোই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পারমাণবিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ
রাষ্ট্রসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (IAEA) গত অন্তত সাত মাস ধরে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যাচাই করতে পারেনি। নিয়ম অনুযায়ী মাসিক পরিদর্শনের কথা থাকলেও তা হয়নি।
বিক্ষোভ, দমনপীড়ন এবং মৃত্যুর সংখ্যা
ডিসেম্বরের শেষদিকে আর্থিক সঙ্কট ঘিরে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই বিক্ষোভ দমনে ভয়াবহ কড়াকড়ি চালানো হয়েছে।
মার্কিন ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Activists News Agency (HRANA)–র তথ্য অনুযায়ী, এই অশান্তির সঙ্গে যুক্ত মৃত্যু ইতিমধ্যেই ৪,৫০০ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রয়েছে। আরও বহু ঘটনার তদন্ত চলছে।
ইরানি প্রশাসনও স্বীকার করেছে, মৃতের সংখ্যা ৫,০০০-এর বেশি, যার মধ্যে কয়েকশো নিরাপত্তাকর্মীও রয়েছেন।