সোমবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ করা এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের একটি “নতুন এবং আরও যুক্তিসঙ্গত” শাসনব্যবস্থার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে, যার লক্ষ্য চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানো।
.jpg.webp)
কড়া সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 30 March 2026 17:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্রুত কোনও সমঝোতা না হলে ইরানের বিরুদ্ধে কড়া সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সাফ বক্তব্য, আলোচনার পর সমঝোতা ভেস্তে গেলে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো, তেলক্ষেত্র (Trump threatens Iran energy infrastructure) এবং খার্গ দ্বীপ ধ্বংস করে দেওয়া হবে (US Iran conflict Kharg Island threat)। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী (Hormuz opening) অবিলম্বে খুলে না দিলে তারও পরিণতি ভোগ করতে হবে তেহরানকে।
সোমবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ করা এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের একটি “নতুন এবং আরও যুক্তিসঙ্গত” শাসনব্যবস্থার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে, যার লক্ষ্য চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানো।
তাঁর কথায়, “আমরা ইরানের একটি নতুন, আরও যুক্তিসঙ্গত শাসনের সঙ্গে গুরুতর আলোচনা চালাচ্ছি, যাতে আমাদের সামরিক অভিযান শেষ করা যায়।”
‘চুক্তি না হলে ধ্বংস’ - কঠোর হুঁশিয়ারি
তবে একই পোস্টে কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আলোচনায় “ভাল অগ্রগতি” হলেও খুব দ্রুত চুক্তি না হলে এবং হরমুজ প্রণালী ‘ব্যবসার জন্য’ খুলে না দিলে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে তাদের উপস্থিতি শেষ করবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে।
ট্রাম্পের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলক্ষেত্র, খার্গ দ্বীপ এবং এমনকি সম্ভব হলে ডেস্যালিনেশন প্ল্যান্ট - সবকিছু “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করে দেবে। তাঁর দাবি, এতদিন ইচ্ছাকৃতভাবেই এই পরিকাঠামোগুলিতে আঘাত হানা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “পুরনো শাসনের ৪৭ বছরের সন্ত্রাসের জেরে আমাদের বহু সেনা এবং অন্যদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
‘বড় দিন’ - ইরানে হামলার দাবি
এর আগে একই দিনে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন সেনা ইরানে “অনেক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু” ধ্বংস করেছে, এবং এটিকে তিনি “বড় দিন” বলে বর্ণনা করেন।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, তেহরান নাকি ওয়াশিংটনের শর্তগুলি মোটামুটি মেনে নিয়েছে। যদিও ইরান সরকার এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
সংঘাতের পঞ্চম সপ্তাহে পশ্চিম এশিয়া
২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ বিমান হামলার পর যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা এখন পঞ্চম সপ্তাহে পড়েছে। এই সময়ের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলিতে মার্কিন সম্পত্তির উপর পাল্টা হামলাও চালিয়েছে ইরান।
এর আগেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি ইরানের তেল সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। খার্গ দ্বীপ, যা ইরানের অন্যতম প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র, সেটি দখল করার কথাও বলেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, “ওদের কোনও প্রতিরক্ষা নেই। আমরা খুব সহজেই সেটি দখল করতে পারি।”
একদিকে আলোচনার ইঙ্গিত, অন্যদিকে সরাসরি ধ্বংসের হুঁশিয়ারি - দু’মুখী বার্তায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও উত্তেজনা কমার বদলে বাড়ছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।