মিত্র দেশগুলির সাড়া না পেয়ে ট্রাম্প কার্যত ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, "আমাদের কারও দরকার নেই। আমেরিকা বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী দেশ, আমাদের সেনাও সবথেকে শক্তিশালী।”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 20 March 2026 00:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে ইরানে হামলা (Israel-US strikes on Iran) চালালেও দিনে দিনে মার্কিন-ইরান সংঘাত (Iran-US conflicts) যেন জটিল রূপ নিচ্ছে। ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করতে সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে ট্রাম্প বাহিনী। এদিকে হরমুজ (Hormuz Pronali) নিয়েও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। যেকোনও উপায়ে এই সামুদ্রিক জলপথ উদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই সবের মধ্যে ফের একবার ইরানকে (Iran) কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর সাফ কথা, 'দু'সেকেন্ডে যুদ্ধ শেষ করতে পারি।' তাঁর হুঙ্কারের আঁচ থেকে বাদ পড়ল না ইরানের 'মুকুট' খার্গ দ্বীপও।
ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) বলেছেন, “আমরা খার্গ দ্বীপকে চাইলে যেকোনও সময় ধ্বংস করতে পারি। আমি এটিকে ‘ছোট দ্বীপ’ বলি। এটি সম্পূর্ণরূপে অসুরক্ষিত। আমরা সবকিছু ধ্বংস করেছি, শুধু পাইপগুলো বাদ দিয়েছি। পাইপ ধ্বংস করলে আবার বানাতে বছরের পর বছর লাগত। আমরা চাইলে এটা দু'সেকেন্ডে শেষ করতে পারি। আমি ঠিক যেমন একজন কন্ট্রাক্টর সম্পর্কে যে জানি, তা আর কেউ জানে না। আমি নেতানিয়াহুকে বলেছি যে, আর তেল ও গ্যাসের ঘাঁটিগুলিতে হামলা করবেন না, এবং তিনি আর সেটা করবেন না।”
আরবদুনিয়ার যুদ্ধ (Middle East Tension) শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ইরানের নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে ওই জলপথে কার্যত অচলাবস্থা। ফলে তেলের দাম বাড়ছে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে (Hormuz crisis oil supply)। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প মিত্র দেশগুলিকে রণতরী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু জার্মানি, স্পেন, ইতালি-সহ বহু দেশ এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি (US allies warships response)। প্রস্তাব থেকে পিছিয়েছে ভারতও।
মিত্র দেশগুলির সাড়া না পেয়ে ট্রাম্প কার্যত ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, "আমাদের কারও দরকার নেই। আমেরিকা বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী দেশ, আমাদের সেনাও সবথেকে শক্তিশালী।” তিনি আরও জানান, "অনেকটা পরীক্ষা করার উদ্দেশেই মিত্রদের পাশে চাইছিলেন, প্রয়োজনে কে সাহায্য করবে তা যাচাই করতে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও একবার দ্রুত হরমুজের অচলাবস্থা কাটানোর প্রসঙ্গে বলেন, "আমরা হরমুজ ব্যবহার করি না। কিন্তু অন্যদের জন্য রক্ষা করার চেষ্টা করছি।" অভিযোগের সুরেই যোগ করেন, "ন্যাটোর দেশগুলির জন্য হরমুজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তারা কেউই আমাকে সাহায্য করেনি।"
ইরান, ইজরায়েল, আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতি (Israel-US strikes on Iran) ২০তম দিনে গড়িয়েছে। এবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ পারাপারের উপর টোল বসানোর কথা ভাবছে ইরান (Strait of Hormuz Toll Iran)। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহণের পথটিতে (Global Oil Route) এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের শীর্ষ কর্তা জানান, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে যেসব দেশ পণ্য, জ্বালানি বা খাদ্য পরিবহণ করে, তাদের কাছ থেকে ট্যাক্স বা টোল (Iran Shipping Tax Hormuz) আদায় করা হবে - সংসদে এমন একটি প্রস্তাব আনার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
হরমুজ অচল হওয়ায় জ্বালানি সঙ্কটের মুখে পড়েছে ভারতও। ৬টি এলপিজি ট্যাঙ্কার আটকে রয়েছে ওই সরু জলপথে। ভারতের মাসিক চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ বহন করছে এই জাহাজগুলি। এই ৬টি ট্যাঙ্কার মিলিয়ে বহন করছে প্রায় ৩.৩৪ লক্ষ মেট্রিক টন এলপিজি (LPG), যা ভারতের মাসিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ। তুলনায়, সম্প্রতি নিরাপদে দেশে এসে পৌঁছনো শিবালিক (Shivalik) ও নন্দা দেবী (Nanda Devi) নামের দুটি ট্যাঙ্কার এনেছিল প্রায় ৪৬ হাজার টন করে এলপিজি (LPG)।
শুধু জ্বালানি নয়, বিপদে পড়েছেন ৬১১ জন ভারতীয় নাবিকও। হরমুজে আটকে থাকা জাহাজগুলোর জ্বালানি শেষের পথে, খাদ্য-জলও কমছে।