ইরান-এ ৪৮ ঘণ্টায় ৪ শীর্ষ নেতা নিহত। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র লক্ষ্য কি তেহরানকে নেতৃত্বহীন করা? বিশ্লেষণে উঠে আসছে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 19 March 2026 10:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় গত ৪৮ ঘন্টারও কম সময়ের ব্যবধানে ইরানের চার শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানির মৃত্যুর পর বুধবার দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিবসহ আরও দুই শীর্ষ কর্মকর্তার নিহতের খবর জানা গিয়েছে। গোড়ায় এই বিষয়টি স্বীকার করতে না চাইলেও পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে শীর্ষ চার নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। পরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এক্সে এক পোস্টে চার শীর্ষ নেতাকে হারানোর খবরের সত্যতা স্বীকার করে নেন। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আহতুল্লা আলী খামেনিকে হত্যা করে মার্কিন ও ইজরাইল বাহিনী। এই হত্যাকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
ইতিমধ্যে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া নতুন শীর্ষ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন। তিনি নিহত হয়েছেন বলে গোড়ায় খবর রটলেও পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন মোজতবা খামেনি বেঁচে আছেন। তবে একাধিক সূত্রের খবর তিনি এই মুহূর্তে দেশকে কোন ধরনের দিশা দিতে পারছেন না।
তবে কূটনৈতিক ও সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনিকে হত্যা করা হলেও এ পর্যন্ত নিহত প্রায় এক ডজনের কাছাকাছি শীর্ষ নেতার মধ্যে আলি লারিজানির মৃত্যু ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত। এই নেতা ক্ষুরধার বাস্তব বুদ্ধিসম্পন্ন ছিলেন এবং দেশকে সঠিকভাবে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে স্পষ্ট তেহরানকে নেতৃত্ব শূন্য করার লক্ষ্য নিয়ে এগচ্ছে ইজরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের ডাকে প্রায় কোনও মিত্র দেশ সাড়া দেয়নি। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ঝুলিয়ে রেখে হরমুজ নিয়ে নয়া দিল্লির উপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু ভারত হরমুজ নিয়ে ইরানের সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চায়নি। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ মনে পড়ছে ট্রাম্প সুপরিকল্পিতভাবেই হরমুজ নিয়ে মিত্র দেশগুলিকে পাশে চাইছেন। তিনি আসলে ওই দেশগুলিকে যুদ্ধে জড়িয়ে নিতে চাইছেন। ট্রাম্প এমনকী চিনেরও দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু ছাড়া পাননি। ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চিন ও ভারতের জাহাজ চলাচলে কোনও বাধা সৃষ্টি করছে না। নয়া দিল্লি ও বেইজিংয়ের ট্রাম্পের ডাকে সাড়া না দেওয়ার সেটাও একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।