মিত্ররা মুখ ফিরিয়েছে, এবার কি ট্রাম্পের ভরসা আমিরশাহি? হরমুজ ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা!

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 18 March 2026 23:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হরমুজ প্রণালীকে (Hormuz Crisis) সচল রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিধর দেশগুলির কাছে তিনি সরাসরি অনুরোধ জানান ওই প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য। কিন্তু একের পর এক দেশ তাঁর সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, “আমাদের কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই।”
এই পরিস্থিতিতেই আমেরিকার পাশে দাঁড়াতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে দেশের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী সচল রাখা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। যদিও এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গারগাশের কথায়, এই প্রণালী সচল রাখা সবার স্বার্থে জরুরি এবং এতে প্রত্যেকেরই দায়িত্ব রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রপ্তানিকারক ও বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে আমিরশাহির অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের হামলায় অন্য অনেক দেশের তুলনায় আমিরশাহিই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পারস্য উপসাগরের বাইরে অবস্থিত তাদের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি বন্দর ফুজাইরাহ-তেও গত কয়েক দিনে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে।
তেহরানের অভিযোগ, আমেরিকার ইরান-বিরোধী হামলার জন্য আমিরশাহি তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়েছে। যদিও দুবাই থেকে সেই অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে। গারগাশ জানিয়েছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকা-ইরান আলোচনা ভেস্তে গেলে সীমিত সংঘাতের আশঙ্কা ছিল। কিন্তু ইরানের আক্রমণের তীব্রতা তাঁদের প্রত্যাশার বাইরে—যাকে তিনি ‘পূর্ণাঙ্গ হামলা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েন থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও আমিরশাহির মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই সম্পর্কে অবনতি হয়েছে। বর্তমানে তেহরান ও আবুধাবির মধ্যে কোনও যোগাযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন গারগাশ। তাঁর মতে, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে ইরান আর পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন কর্মসূচির মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে।
হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে ন্যাটো-সহ প্রতিদ্বন্দ্বী চিনের কাছেও সাহায্য চেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ন্যাটো সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অস্বীকার করে। পোল্যান্ড, গ্রিস, ইতালি, স্পেন—কেউই ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। এমনকী ব্রিটেনও কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি। মিত্র দেশগুলির বক্তব্য, যুদ্ধ শুরুর আগে তাঁদের সঙ্গে কোনও পরামর্শ করা হয়নি, তাই এখন তারা এতে জড়াতে আগ্রহী নয়।
এই প্রেক্ষাপটে, মিত্রদের অনীহায় যখন ট্রাম্প কার্যত কোণঠাসা, তখন তেল-নির্ভর অর্থনীতি রক্ষায় আমিরশাহির সম্ভাব্য সমর্থন ওয়াশিংটনের জন্য বড় স্বস্তি হতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত ১৮ দিনের সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আমিরশাহিতেও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে যদি আমেরিকা ও ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে আমিরশাহি, তবে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। অনেকেরই আশঙ্কা, এতে বৃহত্তর যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।