ট্রাম্পের সাফ কথা, “ইরান যদি কাতারের মতো নিরপরাধ একটি দেশকে আক্রমণ না করে, তবে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাউথ পার্স ক্ষেত্রে আর কোনও হামলা হবে না। কিন্তু যদি ইরান সেই পথে হাঁটে, তবে ইজরায়েলের সহায়তা থাকুক বা না থাকুক, আমেরিকা পুরো গ্যাস ক্ষেত্রই ধ্বংস করে দিতে পারে।”

ইরানের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি জারি রাখল আমেরিকা
শেষ আপডেট: 19 March 2026 14:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে (South Pars Gas Field) আর হামলা চালাবে না ইজরায়েল (Iran Israel Conflict), তবে তার বিশেষ শর্তও রয়েছে - সাফ জানিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের 'এনার্জি ইনফ্রাস্টাকচারে' হামলার (Qatar LNG Attack) পর ইরানের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি জারি রাখল আমেরিকা।
বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইজরায়েল ইরানের বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডের একটি অংশে হামলা চালিয়েছে। যদিও তাঁর কথায়, “পুরো এলাকার তুলনায় খুবই ছোট একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
অবশ্য এই হামলার দায় থেকে দ্রুতই আমেরিকাকে দূরে সরিয়ে নেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, এই অভিযান সম্পূর্ণভাবে ইজরায়েলের নিজস্ব পদক্ষেপ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানত না, এমনকি কাতারেরও এতে কোনও ভূমিকা ছিল না বা তারা কিছুই আঁচ করতে পারেনি।
এরই মধ্যে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত সাউথ পার্সে বোমা হামলার জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিশোধ নেওয়ার কথা জানায় তেহরান। ইরানের তরফে সতর্ক করা হয়, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কাতারের পাঁচটি জ্বালানি কেন্দ্রে “আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই” হামলা হতে পারে।
সেই হুঁশিয়ারির কিছুক্ষণের মধ্যেই, বৃহস্পতিবার ভোরে কাতারের প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি-তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান, এমনটাই জানিয়েছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই এলাকা কাতারের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত এবং চলমান সংঘাতে বারবার টার্গেট হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান সাউথ পার্স হামলার প্রকৃত তথ্য না জেনেই “অন্যায়ভাবে” কাতারের গ্যাস অবকাঠামোর উপর আঘাত হেনেছে।
তিনি আরও কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, যদি ইরান কাতারের জ্বালানি স্থাপনাগুলিতে হামলা চালিয়ে যায়, তবে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। এমনকি তিনি হুমকি দেন, প্রয়োজনে গোটা সাউথ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রই ধ্বংস করে দেওয়া হবে এবং সেই শক্তি ও ক্ষমতা ইরান আগে কখনও দেখেনি।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে লিখেছেন, “ইরান যদি কাতারের মতো নিরপরাধ একটি দেশকে আক্রমণ না করে, তবে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাউথ পার্স ক্ষেত্রে আর কোনও হামলা হবে না। কিন্তু যদি ইরান সেই পথে হাঁটে, তবে ইজরায়েলের সহায়তা থাকুক বা না থাকুক, আমেরিকা পুরো গ্যাস ক্ষেত্রই ধ্বংস করে দিতে পারে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই একাধিকবার ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল ও আমেরিকা, যার মধ্যে তেল স্থাপনাও রয়েছে। পাল্টা হিসেবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলিতেও। এই সংঘাতে একাধিক সমস্যায় পড়েছে হরমুজ প্রণালী, যার জেরে টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার।