গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, এই চালানের উৎস লুকোতে বেজিং সরাসরি নয়, বরং তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে এই অস্ত্র পাঠানোর ছক কষেছে। বিশেষ করে কাঁধে রেখে ছোড়া যায় এমন বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বা 'ম্যানপ্যাড' (MANPADs) পাঠানোর তোড়জোড় চালাচ্ছে জিনপিং প্রশাসন।

ট্রাম্প ও শি জিনপিং
শেষ আপডেট: 12 April 2026 07:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে চলছে উচ্চপর্যায়ের শান্তি বৈঠক (US-Iran Islamabad negotiations), আর অন্যদিকে যুদ্ধের আগুন ছড়াচ্ছে কূটনৈতিক স্তরে। ইরানকে গোপনে অস্ত্র সরবরাহের খবর সামনে আসতেই এবার মেজাজ হারালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেজিংকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তেহরানের হাতে মারণাস্ত্র তুলে দিলে চিনকে 'ভয়ঙ্কর সমস্যার' মুখে পড়তে হবে (Trump warning China Iran arms)।
চিনকে চরম বার্তা ট্রাম্পের
শনিবার মায়ামি যাওয়ার উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। সেখানেই তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, চিন গোপনে ইরানকে অস্ত্র পাঠাচ্ছে বলে যে খবর রটেছে, সে বিষয়ে তাঁর অবস্থান কী? স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই ট্রাম্পের উত্তর, “দেখুন, চিন যদি সত্যিই এমনটা করে, তবে ওদের কপালে বড় দুঃখ আছে। চিন খুব বড় সমস্যায় পড়তে চলেছে, এটা নিশ্চিত ভাবে জেনে রাখুন।”
গোপন পথে যাচ্ছে মিসাইল?
রয়টার্স ও সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানকে আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে চলেছে চিন।
গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, এই চালানের উৎস লুকোতে বেজিং সরাসরি নয়, বরং তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে এই অস্ত্র পাঠানোর ছক কষেছে। বিশেষ করে কাঁধে রেখে ছোড়া যায় এমন বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বা 'ম্যানপ্যাড' (MANPADs) পাঠানোর তোড়জোড় চালাচ্ছে জিনপিং প্রশাসন (US intelligence China MANPADS Iran)।
বাণিজ্য ও কূটনীতিতে সিঁদুরে মেঘ
ইসলামাবাদে যখন জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ব্যস্ত, ঠিক তখনই আমেরিকার এই কড়া অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাইলেও বেজিংয়ের এই পদক্ষেপ সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। তাঁর কথায়, “চিন যদি মার্কিন স্বার্থে আঘাত লাগে এমন ভাবে ইরানের পাশে দাঁড়ায়, তবে সেটা চিনেরই দায়বদ্ধতা যে তারা কীভাবে সেই জট খুলবে।” উল্লেখ্য, আগামী মাসেই ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে (Trump Xi Jinping meeting) বসার কথা রয়েছে।
ইতিহাসের দীর্ঘ সংঘাত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব এবং আমেরিকান দূতাবাসে বন্দি সংকটের পর থেকেই আমেরিকা ও ইরান একে অপরের ঘোর শত্রু। দীর্ঘ কয়েক দশকের এই বৈরিতা আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয় গত কয়েক বছরে। ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলেমানির মৃত্যু থেকে শুরু করে ২০২৫ সালে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন হামলা - সংঘাতের পারদ ক্রমে চড়েছে।
পরিস্থিতি সবথেকে ভয়াবহ আকার নেয় ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হানায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেইনির মৃত্যুর পর সমগ্র আরব দুনিয়া কার্যত বারুদের স্তূপ হয়ে দাঁড়ায়। যার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
শেষ সুযোগ কি ইসলামাবাদ?
গত এপ্রিলের শুরুতে হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির আয়ু শেষ হতে চলেছে আগামী ২২ এপ্রিল। তার আগেই ইসলামাবাদে চলছে ম্যারাথন আলোচনা। দুই পক্ষই একে অপরকে সন্দেহের চোখে দেখছে। এর মধ্যেই চিনের অস্ত্র সরবরাহের এই খবর আগুনের ঘি ঢালার কাজ করেছে। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পর বেজিং এখন কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কূটনৈতিক মহল।