শনিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে মেরিয়াচি প্লাজা থেকে একদল বিক্ষোভকারী মিছিল করে ফেডারেল ইমিগ্রেশন আটক কেন্দ্রের সামনে গিয়ে জমায়েত করেন। স্লোগান ওঠে ‘আইস আউট অফ এলএ।' এরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

উত্তপ্ত এলএ ও ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 9 June 2025 07:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উত্তপ্ত লস অ্যাঞ্জেলেস। চলছে বিক্ষোভ । পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। এরই মাঝে ফের কড়া বার্তা দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আন্দোলনের সময় কেউ যদি পুলিশ বা সেনাদের গায়ে থুতু ছিটায়, তাঁকে ‘কঠিন ফল’ ভোগ করতে হবে। এই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলেসে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেন।
গত কয়েকদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর ধরপাকড় অভিযান ঘিরে উত্তপ্ত লস অ্যাঞ্জেলেস। প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের সামলাতে প্রায় দু'হাজার ন্যাশনাল গার্ড সেনা নামানোর সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। রবিবার নিউ জার্সি থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, 'ওরা এখন নতুন একটা কায়দা শিখেছে, থুতু ছিটানো। শুধু থুতুই নয়, আরও খারাপ জিনিসও ছুড়ে দেয়। ওরা পুলিশ-সেনাদের খুব কাছে গিয়ে মুখের ওপর থুতু ছিটায়। আমি বলে দিয়েছি — ‘ওরা থুতু ছিটালে, আমরা পাল্টা আঘাত করব।’কেউ পুলিশ বা সেনার গায়ে থুতু ছিটালে ছেড়ে কথা বলা হবে না।'
শনিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে মেরিয়াচি প্লাজা থেকে একদল বিক্ষোভকারী মিছিল করে ফেডারেল ইমিগ্রেশন আটক কেন্দ্রের সামনে গিয়ে জমায়েত করেন। স্লোগান ওঠে ‘আইস আউট অফ এলএ।' এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কোনও ধরনের পূর্ব-সতর্কতা ছাড়াই ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা কাঁদানে গ্যাস এবং পিপার বল ছুঁড়তে শুরু করেন। একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এলএপিডি) জানিয়েছে, শনিবার রাতে নির্দেশ অমান্য করে ওই এলাকায় থেকে যাওয়ার অভিযোগে ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র নর্মা আইজেনম্যান জানান, এই ঘটনায় কোনও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আপাতত কোনও মন্তব্য করা যাবে না।
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিক্ষোভকারীদের ‘বিদ্রোহী’ বলে আখ্যা দেন। হোয়াইট হাউসের শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারও এই বিক্ষোভকে ‘হিংসাত্মক বিদ্রোহ’ বলে বর্ণনা করেন।
মাত্র এই কদিনে এত কিছু ঘটে গেলেও এপর্যন্ত ১৮০৭ সালের ইনসারেকশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করেননি ট্রাম্প, যার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে সেনা নামানোর অনুমতি পান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, 'এখনও আমরা সেটা প্রয়োগ করিনি। তবে পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনে করা হতে পারে। গতকাল রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসের দৃশ্য ভয়ানক ছিল, আরও খারাপ হতে পারত।'
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অ্যাকটিভ ডিউটি ট্রুপ মোতায়েন করা হতে পারে। বলেন, 'ক্যাম্প পেন্ডলটনের মেরিন সেনারা এখন উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।'