ক্রেমলিন বলছে, এটি সম্পূর্ণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাঁরা এতে কোনও রকম হস্তক্ষেপ করতে চায় না, এমনকী কোনও মন্তব্যও করবেন না।

ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইলন মাস্ক
শেষ আপডেট: 7 June 2025 12:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন রাজনীতি এখন উত্তাল। এক সময়ের দুই 'বন্ধু' কার্যত শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং ইলন মাস্কের (Elon Musk) সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে 'বিগ বিউটিফুল বিল'-কে (Big Beautiful Bill) কেন্দ্র করে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া গুরুদায়িত্ব ছেড়েছেন মাস্ক এবং সাংবাদিক বৈঠকে তাঁকে চিনতেই অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। এই দুজনের মধ্যে সম্প্রতি যে সম্পর্কের সমীকরণ তার কি রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চলেছে রাশিয়া (Russia)? এমন জল্পনা তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক স্টেট ডুমা কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং কমিউনিস্ট পার্টির ডেপুটি দিমিত্রি নভিকভ মন্তব্য করেছেন, দরকার হলে মাস্ককে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ (Political Asylum) দিতে প্রস্তুত তাঁরা! যদিও এই নিয়ে সরাসরি রুশ সরকারের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ক্রেমলিন বলছে, এটি সম্পূর্ণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাঁরা এতে কোনও রকম হস্তক্ষেপ করতে চায় না, এমনকী কোনও মন্তব্যও করবে না।
দিমিত্রির মাস্ককে নিয়ে মন্তব্য অবশ্য অনেকটা 'ধরি মাছ, না ছুঁই পানির' মতো। কারণ তাঁর কথায়, মাস্ক এখন একদম অন্য ধরনের খেলা খেলছেন। তাঁর আদৌ রাজনৈতিক আশ্রয়ের দরকার পড়বে, এমন সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএ-র তথ্য ফাঁসকারী এডওয়ার্ড স্নোডেনকে আশ্রয় দিয়েছিল মস্কো। একইভাবে ব্রিটিশ ব্লগার গ্রাহাম ফিলিপসও রাশিয়ার আশ্রয় পেয়েছিলেন।
'বিগ বিউটিফুল বিল' নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরেই মাস্ক-ট্রাম্প তরজা চলছে। টেসলা কর্তার দাবি, এই বিল আমেরিকাকে দেউলিয়া করে দিতে পারে। আর যারা এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাদের লজ্জা হওয়া উচিত। যদিও হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা করেছেন তা ভেবেচিন্তে করেছেন এবং তাঁর মত কোনও ভাবে বদল হবে না। এরপরই কার্যত দুই পক্ষের তরজার আগুনে আরও ঘি পড়ে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইলন মাস্ককে আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তাব নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষ করে যখন রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এমন কিছু ভাল জায়গায় নেই। তবে এর বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম হলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই প্রস্তাব বেশ সাড়া ফেলেছে। যদিও মাস্ক নিজে এখনও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এই নতুন মোড় কতদূর গড়াবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।