মধুচন্দ্রিমা কাটালেও দুই বৃহৎ শক্তিধর আপাতত ঢাল-তরোয়াল নিয়ে ডুয়েল লড়াইয়ে নেমেছেন। কিন্তু কেন?

ইলন মাস্ক ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 6 June 2025 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের টেসলা মালিক তথা মার্কিন প্রেসিডেন্টের নবরত্নসভার অন্যতম সদস্য ইলন মাস্কের মধ্যে বৈরিতা শুরু হয়েছে। বেশ কিছুকাল মধুচন্দ্রিমা কাটালেও দুই বৃহৎ শক্তিধর আপাতত ঢাল-তরোয়াল নিয়ে ডুয়েল লড়াইয়ে নেমেছেন। কিন্তু কেন? কী কারণে হঠাৎই তাঁদের মধ্যে নেমে এসেছে এমন শত্রুতার কালো মেঘ, একনজরে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক সেদিকে।
১. দুজনের রাজনৈতিক অবস্থান ও সমর্থন
ট্রাম্পের দাবি: ট্রাম্প মনে করেন, প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তিনি ইলন মাস্ককে অনেক সুবিধা দিয়েছেন, তাই মাস্কের তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
মাস্কের জবাব: মাস্ক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কখনও ট্রাম্পকে ভোট দেননি এবং এমন একজন নেতাকে সমর্থন করতে চান যিনি বিভাজন তৈরি করেন না।
সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু: মাস্ক বলেছেন, ট্রাম্পের এখন অবসর নেওয়ার সময় হয়েছে। এতে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন বাড়ে।
২. ট্রুথ সোশ্যাল বনাম এক্স
ট্রাম্পের Truth Social: টুইটার থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার পর ট্রাম্প নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম Truth Social শুরু করেন।
মাস্কের X (Twitter): টুইটার কিনে নেওয়ার পর মাস্ক ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করেন, কিন্তু ট্রাম্প Truth Social-এই সক্রিয় থাকেন।
সংঘাতের কারণ: নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে প্রাধান্য দিয়ে দুজনেই আলাদা আলাদা চিন্তাভাবনা ও কৌশল অনুসরণ করছেন।
৩. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি
ট্রাম্প: বড় টেক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কণ্ঠরোধের অভিযোগ আনেন এবং বলেন, কনজারভেটিভদের কথা বলার সুযোগ পাওয়া উচিত।
মাস্ক: ‘স্বাধীন মতপ্রকাশ’-এর পক্ষে, তবে তিনিও মাঝে মাঝে সমালোচিত হন যেভাবে তিনি প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণ করেন।
সংঘাতের কারণ: দু’জনেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও বাস্তব প্রয়োগে বিপুল ফারাক রয়েছে।
৪. মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন
ট্রাম্প: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে পুনর্নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং নির্বাচিত হয়েছেন।
মাস্ক: বাইডেনকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করলেও ট্রাম্পকে সমর্থন করেননি। বরং মাঝেমধ্যে বা মধ্যপন্থী প্রার্থীদের কথা বলেন।
সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু: ট্রাম্প মাস্কের কাছ থেকে সমর্থন ও অনুদান চাইলেও মাস্ক তা দেননি।
৫. ব্যক্তিত্বগত দ্বন্দ্ব
ট্রাম্প: আগ্রাসী, কর্তৃত্বপরায়ণ, সবসময় আনুগত্য আশা করেন।
মাস্ক: বিদ্রোহী, উদ্ভাবনী, ট্রোল করতেও পছন্দ করেন।
সংঘাতের কারণ: ট্রাম্প মাস্ককে "ভুয়ো শিল্পী" বলে কটাক্ষ করেন, জবাবে মাস্ক ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মিম শেয়ার করেন।
৬. নীতিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘাত
ইলেকট্রিক গাড়ি (EV) নীতি: ট্রাম্প পরিবেশবান্ধব গাড়ির সরকারি নির্দেশনার বিরোধী। অথচ মাস্কের ব্যবসা এই সেক্টরের উপর নির্ভরশীল।
চিন নীতি: ট্রাম্প চিনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে, মাস্কের টেসলা কারখানা রয়েছে চীনের সাংহাইয়ে।
সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু: ভিন্নমুখী ব্যবসায়িক স্বার্থে নীতিগত দ্বন্দ্ব।
৭. প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা
ট্রাম্প: রিপাবলিকান রাজনীতির প্রধান মুখ হতে চান।
মাস্ক: টেক ও মিডিয়ার মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে চান।
সংঘাত: দুইজনেই নিজেদের শ্রেষ্ঠ প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরতে চান, ফলে একই শ্রোতা বা সমর্থকগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে এই ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব।