ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া মারফৎ জানান, তাঁকে চিনে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি ফার্স্ট লেডি মেলানিয়াকে নিয়েই চিনে যাবেন।

শি জিনপিং এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 6 June 2025 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুল্ক ইস্যুতে দুই দেশের কার্যত 'যুদ্ধ' লেগেছিল। একজন শুল্ক বাড়ায় তো অন্যজন আরও একধাপ এগোয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) চিনে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, চিনা প্রেসিডেন্ড শি জিনপিংকেও (China President Xi Jingping) আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আমেরিকায়। হলটা কী!
বৃহস্পতিবার শুল্ক-যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আপাতত জল ঢেলে প্রথমবার ফোনালাপ (Telephonic Conversation) করেছেন ট্রাম্প-জিনপিং। তাঁদের কথোপকথন প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল, দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি ও বিরল খনিজসম্পদ নিয়ে চলমান অচলাবস্থা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ফোনালাপের কথা জানিয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও আলোচনা থেকে কোনও নির্দিষ্ট চুক্তির কথা তিনি উল্লেখ করেননি।
ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া মারফৎ জানান, তাঁকে চিনে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি ফার্স্ট লেডি মেলানিয়াকে নিয়েই চিনে যাবেন। এও বলেন, তিনিও জিনপিংকে আমেরিকায় আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। যদিও ট্রাম্প কবে চিনে যাবেন, সে বিষয়ে খোলসা করেননি। এদিকে চুক্তি নিয়ে কোনও বিস্তারিত তথ্য না দিলেও ট্রাম্পের মন্তব্য, 'শি অত্যন্ত কড়া মানুষ। ওঁর সঙ্গে কোনও চুক্তি করাই যায় না!'
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ এপ্রিল, অন্যান্য দেশের মতো চিন থেকেও আমদানিকৃত পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন। ওই সময় চিনা সামগ্রীর উপরে এক ধাক্কায় ৩৪ শতাংশ শুল্ক বাড়ায় আমেরিকা। এর পাল্টা জবাবে, আমেরিকান পণ্যে শুল্ক আরোপ করে বেজিং প্রশাসন। এই প্রতিক্রিয়ায় দুই দেশের মধ্যে শুল্কসংক্রান্ত বিরোধ আরও জোরদার হয়।
এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়ে দেন, চিনা পণ্যের উপর আরও ৫০ শতাংশ শুল্ক বাড়ানো হবে। তার ফলে চিনের উপরে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৮৪ শতাংশে। এর সঙ্গে পূর্বে ধার্য ২০ শতাংশ শুল্কও যুক্ত হলে শুল্কের হার পৌঁছায় ১০৪ শতাংশে। তবে এখানেই শেষ নয় —চিন থেকে আমদানি হওয়া বিভিন্ন সামগ্রীর উপর একের পর এক দফায় আরও শুল্ক বাড়াতে থাকে আমেরিকা। ক্রমাগত সেই বৃদ্ধির ফলে চূড়ান্ত শুল্কের হার গিয়ে দাঁড়ায় ১৪৫ শতাংশে। এখন তাই স্বাভাবিকভাবেই দু'পক্ষের ফোনালাপের খবরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।