ট্রাম্পের বার্তা, আত্মসমর্পণের পর এবং “একজন আদর্শ ও গ্রহণযোগ্য নেতা বা নেতৃত্ব” নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার বহু মিত্র এবং অংশীদার দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। তাদের লক্ষ্য হবে ইরানকে ধ্বংসের প্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনা। সেই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতেও সাহায্য করা হবে বলে জানান তিনি।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 6 March 2026 21:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ ক্রমশ তীব্রতর (Middle East Crisis) হওয়ার মাঝেই ইরানের (Iran war) বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ইরান যদি “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” না করে, তাহলে তাদের সঙ্গে কোনও চুক্তি বা সমঝোতার প্রশ্নই উঠছে না (Trump wants unconditional surrender Iran or no deal policy)।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কূটনৈতিক কোনও পথ খোলার আগে তেহরানকে সম্পূর্ণভাবে নতি স্বীকার করতে হবে (US Iran Relations)।
ট্রাম্প লেখেন, আত্মসমর্পণের পর এবং “একজন আদর্শ ও গ্রহণযোগ্য নেতা বা নেতৃত্ব” নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার বহু মিত্র এবং অংশীদার দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। তাদের লক্ষ্য হবে ইরানকে ধ্বংসের প্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনা। সেই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতেও সাহায্য করা হবে বলে জানান তিনি।
পোস্টে ট্রাম্প আরও লেখেন, “ইরানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে। মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন!” এটি তাঁর বহুল পরিচিত রাজনৈতিক স্লোগান “Make America Great Again (MAGA)”-এরই এক ধরনের রূপান্তর।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন প্রায় এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলা চালায়। সেই হামলার জেরে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যার ফলে আরব দুনিয়ার সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশও যুদ্ধের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে তিনি ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি গঠনের ক্ষেত্রেও সরাসরি ভূমিকা নিতে চান। Axios-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে যেমন করেছিলেন, তেমনভাবেই তিনি ইরানের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়াতেও ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত থাকতে চান।
এই প্রসঙ্গেই তিনি সমালোচনা করেন মোজতবা খামেনেই-এর, যিনি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই-এর ৫৬ বছর বয়সি ছেলে। ট্রাম্প বলেন, এমন একজন “হালকা মানের” ব্যক্তির হাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্ব চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তাঁর কাছে “অগ্রহণযোগ্য”।
অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে কিছু দেশ ইতিমধ্যেই মধ্যস্থতার চেষ্টা শুরু করেছে, যদিও তিনি সেই দেশগুলির নাম প্রকাশ করেননি।
তবে জানা গেছে, গত সপ্তাহান্তে মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই কাতার, তুরস্ক, মিশর এবং ওমান - এই চারটি দেশ মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম X-এ এক পোস্টে পেজেশকিয়ান লিখেছেন, “কিছু দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা শুরু করেছে। বিষয়টি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা কোনও দ্বিধা করব না। মধ্যস্থতার উদ্যোগ তাদের দিকেই হওয়া উচিত, যারা ইরানের জনগণকে অবমূল্যায়ন করেছে এবং এই সংঘাতের সূচনা করেছে।”
তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও বাস্তবে সামরিক অভিযান থামার কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের অভিযানে তারা এখন “নতুন পর্যায়ে” প্রবেশ করছে এবং আরও হামলার ইঙ্গিতও দিয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানে মার্কিন অভিযান এখনও মাত্র শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, আগামী কয়েক দিনে আমেরিকার হামলা নাটকীয়ভাবে আরও বাড়তে পারে।