হামাস জানিয়েছে, তারা গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব কোনও প্যালেস্তাইন গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিতে চাইবে এবং বিস্তারিত শর্তাবলি নিয়ে আলোচনায় যেতে চায়।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 4 October 2025 08:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ দ্বন্দ্বের মধ্যে অপ্রত্যাশিত মোড়—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রস্তাবে প্রথমে নীরব থাকা প্যালেস্তাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস (Hamas) অবশেষে সম্মতি জানাল। শুক্রবার হামাসের যে বিবৃতি প্রকাশিত হয়, সেটি ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন—অর্থাৎ মধ্যস্থতায় যুক্ত আমেরিকার প্রস্তাবনাকে কার্যত স্বীকৃতি দিল সংগঠনটি।
ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাব নিয়ে হামাসের নীরবতা ঘিরে উত্তেজনা বাড়লেও, শেষপর্যন্ত বিবৃতি জারি করে হামাস বলেছে—গাজার (Gaza ) ওপর নিপীড়ন ও আগ্রাসন বন্ধে বৃহত্তর স্বার্থে তারা প্রস্তাবটি আলোচনা করেছে এবং বন্দিদের (জীবিত ও মৃত) মুক্তি নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে; তবে কিছু শর্ত প্রয়োগ প্রয়োজন। হামাস জানিয়েছে, তারা গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব কোনও প্যালেস্তাইন গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিতে চাইবে এবং বিস্তারিত শর্তাবলি নিয়ে আলোচনায় যেতে চায়।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, হামাসের বিবৃতির আলোকে ইজরায়েলকে (Israel) দ্রুত গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করতে হবে—তখনই বন্দিদের নিরাপদে প্রত্যাহার সম্ভব হবে। ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি শুধু গাজার সমস্যা নয়, পশ্চিম এশিয়ায় বহু কাঙ্খিত স্থায়ী শান্তির বিষয়। তিনি আরও জানিয়েছেন, ওই প্রস্তাব বাস্তবায়নের তদারকিতে ‘বোর্ড অফ পিস’ গঠন করা হবে, যার চেয়ারম্যান হবেন ট্রাম্প নিজেই।
ট্রাম্পের ২০ দফা দাবির মূল ধারা—
গাজায় প্যালেস্তাইনরা জায়গা ছাড়বে না; অস্থায়ী, অরাজনৈতিক প্রশাসন গঠন।
হামাস যদি রাজি হয়, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব ইজরায়েলি বন্দিকে ছেড়ে দেওয়ার শর্ত।
পর্যায়ক্রমে ইজরায়েল গাজা থেকে সেনা সরিয়ে নেবে।
ইজরায়েলের জেলে থাকা বহু প্যালেস্তাইন কুখ্যাত সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকেও রিলিজ করা হবে; মোট আটকে থাকা হাজারেরও বেশি ব্যক্তির মুক্তির প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ থেকে চলা সংঘাতে হাজার হাজার প্রাণহানির পাশাপাশি দুর্ভিক্ষ ও মানবিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। শান্তি আলোচনা এখনও চূড়ান্ত নয়—হামাসের সম্মতি যে সিদ্ধান্তমূলক শান্তি ধরে আনবে, তা বলা কঠিন। তবে এই অনুত্তরিত মুহূর্তে প্রত্যাহারযোগ্য আশার রেখা দেখা গেছে: বন্দিদের মুক্তি ও হামলা-প্রচেষ্টায় অস্থিরতা কমার সম্ভাবনা তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন—বিস্তৃত ও স্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজন কেবল কাগজে সম্মতি নয়; বাস্তব দফা, তত্ত্বাবধায়ক বোর্ড, এবং সক্রিয় তৃতীয় পক্ষের কার্যকর উদ্যোগ। এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথে কী ধাপে কী অগ্রগতি হবে—এটাই এখন মূল প্রশ্ন।