অভিযোগের জবাবে সংবাদমাধ্যমকে ট্রাম্প বলেন, “আমি জীবনে কোনও দিন ছবি আঁকিনি। মেয়েদের ছবি তো আরও নয়। এই ভাষা, এই শব্দ আমার নয়। পুরো প্রতিবেদনটাই ভুয়ো।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শেষ আপডেট: 19 July 2025 08:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত রিপোর্টে নাম জড়ানোয় সরব ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে, এমনই ইঙ্গিত করে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবাদে ১০০০ কোটি মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা ঠুকে দিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের আইনজীবীদের দাবি, সংবাদপত্রটি ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘মিথ্যা’ খবর করে প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। ট্রাম্পের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের এই কাজ তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান এবং রাজনৈতিক কেরিয়ারে আঘাত হেনেছে।
শুধু তাই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিউ ইয়র্কের আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে, এপস্টিন মামলার ‘গ্র্যান্ড জুরি টেস্টিমনি’-র নির্দিষ্ট অংশ যেন প্রকাশ্যে আনা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি বৃহস্পতিবারই ফাইল প্রকাশের নির্দেশ দেন। শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) সেই আবেদন জমা দিয়েছে আদালতে।
২০১৯ সালে যৌন পাচার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর জেলে মৃত্যু হয়েছিল এপস্টিনের। তবে তাঁর সঙ্গে প্রভাবশালী রাজনীতিক ও শিল্পপতিদের সম্পর্ক নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। তারই মাঝে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, ট্রাম্প ২০০৩ সালে এপস্টিনের ৫০তম জন্মদিনে একটি চিঠি পাঠান, যেখানে টাইপরাইটারে লেখা ছিল, “শুভ জন্মদিন। তোমার প্রতিটা দিন যেন গোপন, তবুও দুর্দান্ত হয়।” সঙ্গে নাকি এক নগ্ন নারীর ছবি এঁকে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প নিজে।
এই অভিযোগের জবাবে সংবাদমাধ্যমকে ট্রাম্প বলেন, “আমি জীবনে কোনও দিন ছবি আঁকিনি। মেয়েদের ছবি তো আরও নয়। এই ভাষা, এই শব্দ আমার নয়। পুরো প্রতিবেদনটাই ভুয়ো।”
এই মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে ডো জোনস ও রুপার্ট মার্ডকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন ট্রাম্প। মামলা অনুযায়ী, তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করেছেন ১০০০ কোটি মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে, ধনকুবের এলন মাস্কও দাবি করেছেন, এপস্টিন ফাইলে ট্রাম্পের নাম রয়েছে। মাস্ক সম্প্রতি নিজের রাজনৈতিক দল ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠন করেছেন এবং জানান, এপস্টিন ফাইল সম্পূর্ণ প্রকাশ করা হবে তাঁর দলের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে এখন প্রশ্ন, জনস্বার্থে কি আদৌ প্রকাশ করা যাবে এই ‘সিক্রেট ফাইল’? আইন বলছে, বিশেষ অনুমতি ছাড়া ‘গ্র্যান্ড জুরি’-র সাক্ষ্য প্রকাশ করা যায় না। তবে জনস্বার্থের যুক্তি দেখিয়ে সেই ফাইল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিতে পারে আদালত।
এই নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। সামনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তার আগেই ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।