এতদিনে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে যে মোদী-অমিত শাহ শিবির বনাম আরএসএস তথা সঙ্ঘ পরিবারের একটা জোরদার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। বলা যেতে পারে সেই সংঘাতের বিষয়টি চাপাই ছিল।

নরেন্দ্র মোদী ও নিশিকান্ত দুবে।
শেষ আপডেট: 18 July 2025 21:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিনে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে যে মোদী-অমিত শাহ শিবির বনাম আরএসএস তথা সঙ্ঘ পরিবারের একটা জোরদার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। বলা যেতে পারে সেই সংঘাতের বিষয়টি চাপাই ছিল। কিন্তু শুক্রবার তা প্রায় হাটখোলা করে দিলেন মোদী-শাহ ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা ও সাংসদ নিশিকান্ত দুবে (Nishikant Dubey)।
প্রধানমন্ত্রী এদিন ছিলেন দুর্গাপুরে (Narendra Modi in Durgapur)। ঠিক সেই সময়েই দিল্লিতে বোমা ফাটিয়ে নিশিকান্ত বলেন, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব ছাড়া ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির ফল মোটেও ভাল হবে না। তাঁর সাফ কথা, "মোদীজি না থাকলে বিজেপি ১৫০টি আসনও পাবে না। আজকের বিজেপির কাছে মোদীজি অপরিহার্য।"
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুবে বলেন, “এই মুহূর্তে দেশের নেতা হিসাবে আমি একমাত্র নরেন্দ্র মোদীকেই দেখি আগামী ১৫-২০ বছরের জন্য। দল ও দেশের কর্মীরা আজ মোদীজির প্রয়োজন বোধ করেন, মোদীজি আমাদের প্রয়োজন বোধ করেন না।” তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সালে মোদীজি ক্ষমতায় আসার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাঙ্ক তৈরি হয়েছে, যেটা আগে কখনও বিজেপির ছিল না। বিশেষ করে গরিব শ্রেণির মানুষের সমর্থন বিজেপির দিকে ঘুরে গেছে। সেই আস্থা এখনও অটুট। সে কারণেই তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মোদী।”
নিশিকান্ত যে তত্ত্বের বড়াই করছেন, তাতেই আপত্তি সঙ্ঘ পরিবারের। আরএসএসের অনেকের মতে, মোদী-শাহ জমানায় বিজেপির চরিত্র বদলে গেছে। বিজেপি মানেই মোদী হয়ে গেছে, এটা ঠিক নয়। মোদীর পরেও বিজেপিকে টিকে থাকতে হবে। তাই তার চরিত্রের স্বাতন্ত্র থাকতে হবে। বিজেপি মানেই মোদী এই ধারনা থেকেই বের করতে হবে দলকে।
এবং সেই কারণেই, সঙ্ঘ পরিবার এবার প্রবল চাপ তৈরি করেছে যে দলের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি যেন মোদী-শাহর ইয়েসম্যান না হন। জেপি নাড্ডার মতো কাউকে সভাপতি চাই না যিনি নামে পদে থাকবেন, কিন্তু আসলে দল চালাবেন অমিত শাহ। বরং মোদী বিরোধী নেতা বলে পরিচিত সঞ্জয় জোশীকে বিজেপির সংগঠনের বড় পদে বসানোর জন্য দৌত্য শুরু করেছে নাগপুর। এবং অনেকের মতে, এ ব্যাপারে মোদীর উপর চাপ তৈরি করতেই সম্প্রতি বয়সের প্রসঙ্গ তুলেছেন মোহন ভাগবত।
এক অনুষ্ঠানে মোরোপন্ত পিংলের কথা উদ্ধৃত করে ভাগবত বলেছিলেন, কারও ৭৫ বছর বয়স হয়ে গেছে মানেই তাঁর সরে যাওয়ার সময় এসে গেছে। এবার তরুণদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। প্রসঙ্গত এই সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখ মোদীর বয়স ৭৫ হবে। অনেকের মতে, ভাগবত কৌশলগত ভাবে মোদীকে বার্তা দিতে চেয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন মোদী অনুগামী নিশিকান্ত। মোদীর পর কে হবেন দলের নেতা বা দেশের মুখ, এ প্রশ্নের জবাবে নিশিকান্ত বলেন, “এখন শুধু মোদীজিকেই দেখতে পাচ্ছি। এই মুহূর্তে বিকল্প নেই। ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটও ওঁর নেতৃত্বেই লড়তে হবে। এটা বিজেপির ‘মজবুরি’।”
মোদীর বয়স ও ভবিষ্যত নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “বয়স কোনও বাধা নয়। ৮৩ বছর বয়সে যদি মোরারজি দেশাই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তবে মোদীজি তো এখনো অনেক বেশি সক্রিয়। যদি আপনারা ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত চান, তাহলে মোদীজিকেই চান।”
নিশিকান্তর বক্তব্য নাগপুরের উদ্দেশে বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর সাফ অর্থ হল সঙ্ঘের সঙ্গে সংঘাত জোরদার হওয়া। এবার শুরু হবে আসল স্নায়ুর লড়াই।