কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের খাদ্য সংক্রান্ত নির্দেশিকাকেও তীব্র কটাক্ষ করেছেন কুণাল ঘোষ।

কুণাল ঘোষ।
শেষ আপডেট: 18 July 2025 20:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার দুর্গাপুরের (Durgapur Modi Meeting) প্রশাসনিক সভা থেকে ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস করে উন্নয়নের প্রশ্ন রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে নজিরবিহীন আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সন্ধ্যেয় সাংবাদিক বৈঠকে যার জবাবে মোদীর ঘোষিত ‘হাজার হাজার কোটি টাকার’ উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বড় প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।
সরাসরি মোদীকে ‘মিথ্যাচারি’ বলে আক্রমণ করেন কুণালের কটাক্ষ, “উনি খালি হাতে এসে একরাশ মিথ্যে তথ্য দিয়ে গেলেন। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাংলার ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া দিচ্ছেন না, আর অদৃশ্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প দেখিয়ে গেলেন!”
এদিন দুর্গাপুরের প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, “উনি দয়া করছেন না। যেটা করা উচিত সেটাই করছেন। বাংলাকে একশ দিনের কাজের টাকা, আবাস যোজনার টাকা দিচ্ছেন না। সবটা রাজ্য সরকার দিয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচার করে বাংলার মাটিতে জায়গা করে নিতে চাইছে বিজেপি।
এই আক্রমণের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের খাদ্য সংক্রান্ত নির্দেশিকাকেও তীব্র কটাক্ষ করেছেন কুণাল ঘোষ। খাদ্যতালিকায় জিলিপি-শিঙাড়া-ফিস ফ্রাই নিষিদ্ধ নয়, তবে এগুলির বিরুদ্ধে ‘সতর্কতা’ জারি করায় ক্ষুব্ধ বাংলার শাসক। শুক্রবারের সাংবাদিক বৈঠকে কুণালের টেবিলে স্পষ্টতই সাজানো ছিল এক প্লেট জিলিপি, শিঙাড়া ও ফিস ফ্রাই!
তাঁর সাফ কথা, “কে কী খাবে, সেটা কেন্দ্র ঠিক করে দিতে পারে না। গণতান্ত্রিক দেশে কেউ শিঙাড়া খাবে, কেউ জিলিপি, কে কবে কোন ফতোয়া মানবে? খাদ্যের গুণগত মান থাকলে তাতে আপত্তি কোথায়?” কুণাল বলেন, “বাংলা মাছে-ভাতে মানুষ, আমরা খাদ্য স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। খাদ্যে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করব না। মাছ-মিষ্টি অ্যান্ড মোর, এটাই বাংলার চিহ্ন।”
তৃণমূলের বক্তব্য, এই নির্দেশিকা শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সতর্কতা জারি করলেও সেটিকে ‘সংস্কৃতি আক্রমণ’ হিসেবেই দেখছে রাজ্য। কুণালের মতে, এটা 'একটা বিপজ্জনক প্রবণতা', যার বিরুদ্ধে এবার প্রতিরোধ শুরু করেছে বাংলা।