শুধু তাই নয়, তাঁর কথায়, ইতিহাসে তাঁর মতো নোবেল শান্তি পুরস্কারের (Nobel Prize) যোগ্য আর কেউ নেই।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 10 January 2026 08:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষ (India–Pakistan conflict) থামানোর কৃতিত্ব ফের নিজের ঝুলিতে পুরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দাবি করলেন, দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তিনি দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ ঠেকিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর কথায়, ইতিহাসে তাঁর মতো নোবেল শান্তি পুরস্কারের (Nobel Prize) যোগ্য আর কেউ নেই।
এক জনসভায় ট্রাম্প বলেন, “মানুষ ট্রাম্পকে পছন্দ করুক বা না করুক, আমি আটটি বড় যুদ্ধ মিটিয়েছি। কিছু যুদ্ধ ৩৬ বছর, ৩২ বছর ধরে চলছিল। আবার কিছু যুদ্ধ শুরু হওয়ার মুখে ছিল, যেমন ভারত ও পাকিস্তান। আকাশে আটটি যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়েছিল। আমি খুব দ্রুত বিষয়টা মিটিয়ে দিয়েছি, কোনও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করেই।”
সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “ইতিহাসে আমার থেকে বেশি নোবেল পাওয়ার যোগ্য কাউকে আমি ভাবতেই পারছি না। আমি বড়াই করতে চাই না, কিন্তু কেউ এতগুলো যুদ্ধ থামাতে পারেনি। যে যতগুলো যুদ্ধ থামায়, তার জন্য আলাদা করে নোবেল পাওয়া উচিত।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর হস্তক্ষেপে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ বেঁচেছে। দাবি করেছেন, “এই যুদ্ধগুলো এমন ছিল, যেগুলো কেউ থামানো সম্ভব বলে ভাবেনি। আমি সম্মান চাই না, আমি মানুষের প্রাণ বাঁচাতে চাই। আমি কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছি”।
পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এখানে এসেছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামিয়ে অন্তত এক কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। নইলে সেটা ভয়াবহ রূপ নিত।”
তবে ট্রাম্পের এই দাবি বরাবরের মতোই খারিজ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির বোঝাপড়া হয়েছে সরাসরি দু’দেশের মধ্যে, কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় নয়। এপ্রিল ২০২৫-এ জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালায় ভারত। তার পরেই পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।
এ দিন ইরান নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “ইরান বড় সমস্যায় রয়েছে। এমন কিছু শহরে মানুষ রাস্তায় নেমেছে, যা কেউ কল্পনাও করেনি। আমরা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছি। যদি ওদের সরকার আগের মতো মানুষ হত্যা শুরু করে, তা হলে আমরা হস্তক্ষেপ করব। এমন জায়গায় আঘাত করব, যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা পাবে।”
ট্রাম্পের সংযোজন, অতীতে ইরানের প্রশ্নে ওবামা প্রশাসন পিছিয়ে এসেছিল বলেও তাঁর অভিযোগ। “ইরান তাদের মানুষকে খারাপ ব্যবহার করেছে, আর এখন তার ফল পাচ্ছে,” মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তির রক্ষক হিসেবে নিজেকে ফের তুলে ধরলেন ট্রাম্প। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান প্রশ্নে তাঁর দাবিকে ঘিরে বিতর্ক যে থামার নয়, তা স্পষ্ট।