আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই বিল পাশ হলে রাশিয়ার তেল আমদানি করা দেশগুলির উপর বিপুল শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবে মার্কিন প্রশাসন। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে ভারত, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশ।

নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 9 January 2026 18:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার থেকে তেল কেনা (Russian Crude Oil) দেশগুলির ওপর অন্তত ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব ঘিরে মার্কিন কংগ্রেসে যে দ্বিদলীয় বিল নিয়ে আলোচনা চলছে, তা ওপর নজর রাখছে ভারত (India)। শুক্রবার এই কথা স্পষ্ট জানাল বিদেশমন্ত্রক (MEA)।
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) বলেন, “এই প্রস্তাবিত বিল সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি অবগত। এর সঙ্গে যুক্ত সমস্ত বিষয় এবং অগ্রগতির উপর আমরা নিবিড়ভাবে নজর রাখছি।”
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রস্তাবিত এই বিল পাশ হলে রাশিয়ার তেল আমদানি করা দেশগুলির উপর বিপুল শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবে মার্কিন প্রশাসন। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে ভারত, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশ। এই প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জয়সওয়াল আবারও জ্বালানি নীতির মূল দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারের পরিস্থিতি এবং বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই শক্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। একই সঙ্গে ১৪০ কোটির বেশি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়, “শক্তির উৎস নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করি। পাশাপাশি আমাদের জনগণের জন্য জ্বালানি যেন সাশ্রয়ী থাকে, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই দুইয়ের ভিত্তিতেই আমাদের নীতি ও কৌশল স্থির হয়।”
এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন মার্কিন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম বৃহস্পতিবার দাবি করেন, রাশিয়া-বিরোধী এই দ্বিদলীয় নিষেধাজ্ঞা বিলে সবুজ সংকেত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে এই বিল নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান গ্রাহাম।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ করা এক পোস্টে গ্রাহাম লেখেন, ইউক্রেন শান্তির পথে কিছু ছাড় দিচ্ছে, অথচ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কেবল কথার ফুলঝুরি দিচ্ছেন এবং নিরপরাধ মানুষ হত্যা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রেক্ষিতেই বিলটি ‘সঠিক সময়ে আনা হয়েছে’ বলে তাঁর দাবি।
গ্রাহামের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিল কার্যকর হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই সব দেশকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার ক্ষমতা পাবেন, যারা সস্তা রুশ তেল কিনে কার্যত পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে অর্থ জোগাচ্ছে। তাঁর দাবি, চিন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির উপর চাপ তৈরি করতেই এই বিল গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে।
এই আবহে ভারতের উপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল আমদানির জেরে (Russian Crude Oil) ইতিমধ্যেই ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনাতেও রুশ তেল আমদানি বন্ধ করার শর্ত জোরালোভাবে তুলে ধরছে ওয়াশিংটন।
যদিও এই চাপের মুখে নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও উপভোক্তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন উৎস থেকে কতটা সাশ্রয়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় থাকবে বলে জানিয়েছে ভারত।