তবে এই ১০ দিনের বিরতি শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে গড়াবে, নাকি শুধুই সাময়িক উত্তেজনা প্রশমন হিসেবে কাজ করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় এই বিরতি বাড়ানোর কোনও নির্দিষ্ট শর্ত উল্লেখ করেননি। তবে ইরানের অনুরোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অন্তত এটুকু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগের একটি স্তর রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 27 March 2026 07:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করলেন, ইরানের শক্তি পরিকাঠামোর উপর হামলা আপাতত ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হচ্ছে (Donald Trump Iran strikes pause)। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তেহরানের অনুরোধে, এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। এর ফলে চলতি সংঘাতের মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনার একটি সম্ভাব্য পথ (US Iran conflict diplomacy) খুলে যেতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ইরান সরকারের অনুরোধ অনুযায়ী শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংসের সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখছি। এই বিরতি চলবে সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত।”

একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং তা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে। “আলোচনা চলছে এবং তা খুব ভালভাবে এগোচ্ছে,” বলেন ট্রাম্প। পাশাপাশি, সংঘাত নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত “ভুল তথ্য”-এর বিরুদ্ধেও তিনি সরব হন।
কূটনৈতিক পথ খুলতে পারে এই বিরতি
এই ১০ দিনের বিরতি পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ আক্রমণে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও শক্তি পরিকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল তেহরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করা।
এর পাল্টা জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। মার্কিন ঘাঁটি এবং মিত্র দেশগুলির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক আক্রমণ হয়, যার ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধের আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে এই ১০ দিনের বিরতি শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে গড়াবে, নাকি শুধুই সাময়িক উত্তেজনা প্রশমন হিসেবে কাজ করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় এই বিরতি বাড়ানোর কোনও নির্দিষ্ট শর্ত উল্লেখ করেননি। তবে ইরানের অনুরোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অন্তত এটুকু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগের একটি স্তর রয়েছে।
হুমকি থেকে আলোচনায় - দ্রুত বদল ট্রাম্পের অবস্থানে
উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র কয়েক দিন আগেই ট্রাম্পের অবস্থান ছিল অনেক বেশি কড়া। ২২ মার্চ তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো লক্ষ্য করে আমেরিকা সরাসরি হামলা চালাবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করে দেওয়া হবে।
কিন্তু তার পরদিনই অবস্থান কিছুটা বদলায়। ট্রাম্প জানান, “গঠনমূলক” আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পিত হামলা পাঁচ দিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, দুই পক্ষই উত্তেজনা কমাতে ইতিবাচক আলোচনা চালিয়েছে। যদিও ইরানের তরফে বলা হয়, এই স্থগিতাদেশ আসলে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত।
সব মিলিয়ে, সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে - এমন বার্তাই এখন সামনে আসছে ট্রাম্পের এই ঘোষণায়।