বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা মারার ঘটনাকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করেন।

হিরোশিমা-নাগাসাকির ঘটনা বিশ্বের মানবসভ্যতার সবথেকে ধিক্কৃত, কলঙ্কজনক অধ্যায়।
শেষ আপডেট: 25 June 2025 16:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ‘বিলুপ্ত’ করার ‘বিতর্কিত দাবি’র সপক্ষে নিজের কোলে ঝোল টানতে ফের একবার মুখ খুললেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কয়েক দশকের মতো পিছিয়ে দেওয়া গিয়েছে। চরম ধাক্কা খেয়েছে ইরান। প্রসঙ্গত, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে তেহরান যখন ইজরায়েল ও আমেরিকাকে মুখের উপর জবাব দিচ্ছিল পাল্টা আঘাত হেনে, তখনই আচমকা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে দেন ট্রাম্প। তার ঠিক পরদিনই আজ, বুধবার তিনি বললেন, পরমাণু কর্মসূচিতে ইরান জবরদস্ত ধাক্কা খেয়েছে।
ইজরায়েলকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হানায় পর্যুদস্ত করে দিতে শুরু করে ইরান। ইরানের ছোড়া হাইপারসনিক, রাডারের চোখে ধুলো দিতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্লাস্টার বোমায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল ইজরায়েল। বিশেষত তাদের আকাশবর্ম হিসেবে বিখ্যাত ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী অস্ত্র সম্ভারের ভাঁড়ারেও টান ধরেছিল। সেই সময়ই প্রতি জবাবে ট্রাম্প ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা মারেন। কিন্তু, মার্কিন গোয়েন্দা সহ, পরমাণু বিশেষজ্ঞ এবং উপগ্রহ চিত্রেও সমস্ত কিছু ধ্বংসের নামমাত্র চিহ্ন মেলেনি। কারণ, পরমাণু কেন্দ্র বিনষ্ট হলে যে তেজষ্ক্রিয় বিকিরণ ঘটে, তা হয়নি।
বহু বিশেষজ্ঞের অনুমান, মার্কিন হামলার আগাম আঁচ করে ইরান তার আগেই সেখান থেকে শুদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছিল। শুধু তাই নয়, সিয়া ধর্মগুরু আলি খামেনেইকে গদিচ্যুত করা কিংবা তাঁকে অব্যর্থ নিশানায় খতম করার ছকও পূর্ণ করতে পারেননি ট্রাম্প ও তাঁর শাগরেদ ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আর সে কারণেই ঘরে-বাইরে নানান টিটকারির মুখোমুখি হতে হচ্ছে ট্রাম্পকে।
নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ ট্রাম্প এদিন ন্যাটোর (NATO) মহাসচিব মার্ক রুট-এর সঙ্গে কথা বলেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরান এরপর দীর্ঘদিনের মধ্যে আর পরমাণু বোমা তৈরি করতে যাবে না। ফের একবার বলেন, আমেরিকার হামলায় ইরানের পরমাণু কেন্দ্র সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্টের দাবি, ইহুদি রাষ্ট্র ও খামেনেই নেতৃত্বাধীন সিয়া রাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ভালভাবেই মেনে চলা হচ্ছে।
ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন বোমারু বিমান থেকে বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা মারার ঘটনাকে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করেন। এটাই যুদ্ধ শেষ করার শেষ কৌশল ছিল। হিরোশিমা-নাগাসাকির ঘটনা বিশ্বের মানবসভ্যতার সবথেকে ধিক্কৃত, কলঙ্কজনক অধ্যায় জেনেও ট্রাম্পের কথায়, আমি হিরোশিমার উদাহরণ দিচ্ছি না। আমি নাগাসাকির দৃষ্টান্ত দিতে চাইছি না। কিন্তু, ওটা ছিল যুদ্ধ থামানোর একমাত্র উপায়। তাতেই এতবড় যুদ্ধ এক মিনিটে থেমে গিয়েছিল।