ভারতের অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী পরিস্থিতিতে পাকিস্তান তাদের পরমাণু শক্তিবহর বাড়াচ্ছে।

পাকিস্তানকে পরমাণু শত্রুদেশ বলে দাগিয়ে দিতে পারে আমেরিকা।
শেষ আপডেট: 25 June 2025 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের পর কি আমেরিকার নজরে পাকিস্তান? ইসলামাবাদ প্রশাসন ও পাক সেনাবাহিনী যতই আমেরিকার সঙ্গে গা ঘষাঘষির চেষ্টা করুক না কেন, পাক পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইতিমধ্যেই চিন্তিত ওয়াশিংটন। কারণ, পাক সেনাবাহিনী চিনের মদতে গোপনে একটি পরমাণু অস্ত্রধর আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরির পথে এগচ্ছে। যার ক্ষমতা হবে আমেরিকায় গিয়ে আছড়ে পড়ার মতো। ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে এই গোপন খবরটি এসেছে।
‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’ শীর্ষক এই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ভারতের অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী পরিস্থিতিতে পাকিস্তান তাদের পরমাণু শক্তিবহর বাড়াচ্ছে। যাতে সরাসরি মদত দিচ্ছে চিন। কিন্তু, পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজটি চলছে অত্যন্ত গোপনে। মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তান এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির দিকে এগচ্ছে। আর তার হাতেনাতে প্রমাণ মিললেনই পাকিস্তানকে পরমাণু শত্রুদেশ বলে দাগিয়ে দিতে পারে আমেরিকা।
পরমাণু অস্ত্রধারী বেশ কয়েকটি দেশকে মার্কিন প্রশাসন শত্রুদেশ বলে চিহ্নিত করে রেখেছে। সেগুলি হল- রাশিয়া, চিন ও উত্তর কোরিয়া। পরমাণু অস্ত্রধারী যেসব দেশকে আমেরিকা তাদের দেশের পক্ষে বিপজ্জনক ও বিরোধী শক্তি বলে মনে করে, তাদেরই নামের পাশে শত্রুদেশ বলে তকমা বসিয়ে দেয় হোয়াইট হাউস। সেদিক থেকে ইরানের পর এবার পাকিস্তানের পালা পড়তে চলেছে বলে অনেকের অনুমান।
ইন্টার-কন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল বা আইসিবিএম যদি পাকিস্তানের হাতে আসে, তাহলে ওয়াশিংটনের সামনে পাকিস্তানকে শত্রু বলে চিহ্নিত করা ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা থাকবে না। মার্কিন এক আধিকারিকের কথায়, আইসিবিএম থাকা কোনও দেশ যারা আমেরিকাকে আঘাত করতে পারে, তারা কখনই আমাদের বন্ধু হতে পারে না।
পাকিস্তান গোড়া থেকে বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হল ভারতের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে। অর্থাৎ আত্মরক্ষার স্বার্থে পরমাণু অস্ত্র মজুত করা। তাদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। পাকিস্তানের দাবি, এখনও পর্যন্ত তাদের কাছে আন্তর্মহাদেশীয় কোনও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নেই। উল্লেখ্য, এই জাতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু ও চিরাচরিত অস্ত্র বহনে সক্ষম। যা ৫,৫০০ কিমির বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে।
২০২২ সালে পাকিস্তান ভূমি থেকে ভূমি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শাহিন থ্রি (Shaheen-III)-এর পরীক্ষা করেছিল। শাহিন ৩, ২,৭০০ কিমি দূরে আছড়ে পড়তে পারে। যার ফলে ভারতের বেশ কয়েকটি বড় শহরই শাহিনের নাগালের মধ্যে পড়ে। এই অবস্থায় আমেরিকাকেও নাগালের মধ্যে রাখতে পাকিস্তান এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। অনুমান, কোনও সময় ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে কিংবা আমেরিকা ফের কোনও সংঘর্ষে ভারতের পক্ষ নিলে, যাতে সেদেশেও আঘাত হানতে সক্ষম থাকা যায়, তার জন্য তৈরি থাকতে চাইছে পাকিস্তান। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের হাতে প্রায় ১৭০টি পরমাণু অস্ত্র আছে। এমনকী পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতেও তারা সই করেনি। ফলে, আমেরিকার কাছে পাক কর্মসূচি নিয়ে দুশ্চিন্তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তাই উপমহাদেশীয় এলাকায় চিনা বাড়বৃদ্ধি ঠেকাতে তারাও এবার পাকিস্তানের উপর পরমাণু চুক্তি করানোর চাপ দিতে পারে।