বৈঠক আয়োজনের নেপথ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল মুনিরের, এ কথাও স্বীকার করেন শেহবাজ শরিফ। তাঁর ভাষায়, ‘‘ফিল্ড মার্শাল মুনির অক্লান্ত পরিশ্রম করে যুদ্ধের আগুন নেভাতে সাহায্য করেছেন, ইরান ও আমেরিকাকে আলোচনার টেবিলে আনাই ছিল তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা।’’

শেহবাজ-মুনিরের প্রশংসা ট্রাম্পের
শেষ আপডেট: 13 April 2026 08:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে (Middle East tension) সাময়িক বিরতি দিয়ে স্থায়ী সমাধানের জন্য ইসলামাবাদে মুখোমুখি বসেছিল ইরান ও আমেরিকা (Iran US Conflict)। সেই বৈঠক ভেস্তে গেলেও, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) এবং দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের (Asim Munir) নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। রবিবার ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) লিখে তিনি জানান, ইসলামাবাদের আলোচনার আয়োজন খুবই দক্ষ ও উপযুক্ত নেতৃত্বের উদাহরণ।
ট্রাম্প দাবি করেন, শেহবাজ ও মুনির তাঁকে বারবার ধন্যবাদ জানান, কারণ তাঁর হস্তক্ষেপেই নাকি গত বছর ভারত-পাকিস্তানের সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়ানো গিয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘'৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন মানুষের প্রাণ বাঁচানো হয়েছিল। এত বিরাট মানবিকতা ভাষায় বোঝানো কঠিন।' যদিও ভারত বহুবার জানিয়েছে, কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়া নিজেরাই পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্প বহুদিন ধরেই সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ‘ফেভারিট ফিল্ড মার্শাল’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি নাকি কমপক্ষে দু’বার মুনিরের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে দেখাও করেছেন।
এই বৈঠক আয়োজনের নেপথ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল মুনিরের, এ কথাও স্বীকার করেন শেহবাজ শরিফ। তাঁর ভাষায়, ‘‘ফিল্ড মার্শাল মুনির অক্লান্ত পরিশ্রম করে যুদ্ধের আগুন নেভাতে সাহায্য করেছেন, ইরান ও আমেরিকাকে আলোচনার টেবিলে আনাই ছিল তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা।’’
শনিবার শুরু হওয়া এই বহু প্রতীক্ষিত আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স (JD Vance)। ইরানের তরফে উপস্থিত ছিলেন সংসদ-স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ (Mohammad Bagher Ghalibaf) এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগাচি (Abbas Araghchi)। তবুও ম্যারাথন বৈঠক কোনও সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি। অবশেষে জেডি ভ্যান্স ঘোষণা করেন, তিনি কোনও চুক্তি ছাড়াই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
অচলাবস্থার জন্য ট্রাম্প ও ভ্যান্স যেখানে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দায়ী করেছেন, তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটনের দাবিগুলি ছিল 'অযৌক্তিক'।
এদিকে চলমান যুদ্ধের পটভূমি আরও ভয়াবহ। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই নিহত হন। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালায় ইজরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে। পরে ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন, কিন্তু তা-ও আলোচনার ভাঙনের পর এখন ধোঁয়াশায়।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং পরবর্তী পথ কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনও অনিশ্চিত।