শনিবার ইসলামাবাদে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিল দুই দেশ। মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের (JD Vance) সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগাচি (Abbas Araghchi)।

ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 13 April 2026 08:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসলামাবাদের বৈঠক ব্যর্থ হতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক (US Iran Relationship) যেন আরও তলানিতে ঠেকছে। রবিবারই হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) অবরোধ করার ঘোষণা করে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা থেকেই হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) কার্যত অবরুদ্ধ করতে শুরু করবে আমেরিকা। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে পণ্যবোঝাই বহু জাহাজকে আটকাতে প্রস্তুত মার্কিন সেনা।
অবরোধকে কেন্দ্র করে আমেরিকার পক্ষ থেকে বিস্তারিত বিবৃতি দিয়েছে মার্কিন সেনা (US Army)। তাদের দাবি, এই অবরোধ কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়- এটি সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। যে সব জাহাজ ইরানের (Iran) কোনও বন্দরে ঢোকার বা বেরোনোর চেষ্টা করবে, শুধু সেগুলিই আটকানো হবে। আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরের ইরানি বন্দরগুলিকেও এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে। তবে যারা ইরানি বন্দর এড়িয়ে শুধু হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করবে, তাদের চলাচলে বাধা দেবে না মার্কিন নৌবাহিনী, এমনটাই জানানো হয়েছে। অবরোধ শুরুর আগেই নাবিকদের জন্য আলাদা সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে।
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেছেন, হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) দিয়ে যাতায়াতের জন্য ইরানকে যে দেশগুলি ‘অবৈধ শুল্ক’ দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি কড়া ব্যবস্থা নেবেন। ইরানের সেনা যে বিস্ফোরক মাইন সমুদ্রপথে বসিয়েছিল বলে মার্কিন দাবি, সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজও শুরু হবে। ট্রাম্পের স্পষ্ট হুংকার, “যারা বেআইনি শুল্ক দেবে, তারা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে না। আমাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ হলে আমরা তার জবাব কঠোরভাবেই দেব।”
এর পাল্টা কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী (Islamic Revolutionary Guard Corps)। তারা জানিয়েছে, হরমুজের দিকে যদি কোনও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এগোয়, তবে সেটি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং তাতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ (Mohammad Bagher Ghalibaf) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেন, “তোমরা যদি যুদ্ধ চাও, যুদ্ধই পাবে। আলোচনার দরজা খোলা থাকলে আমরাও যুক্তি দিয়ে এগোব।”
শনিবার ইসলামাবাদে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিল দুই দেশ। মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের (JD Vance) সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগাচি (Abbas Araghchi)। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা কথা হলেও কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। ফলে মাত্র কয়েকদিন আগে ট্রাম্প ঘোষণা করা দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিও এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা করছে কূটনৈতিকমহল।