বন্ধ দরজার আড়ালে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব পৌঁছেছে আমেরিকার কাছে। যদিও প্রথমে তা খারিজ করা হয়, পরে ট্রাম্প একে “আলোচনার ভিত্তি” বলে উল্লেখ করেন। ঠিক কী হয়েছিল শেষ ৯০ মিনিটে?

ট্রাম্প-মুনির-মোজতবা খামেনেই
শেষ আপডেট: 8 April 2026 11:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে (Washington DC) তখন সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা। হাতে আর মাত্র ৯০ মিনিট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President) ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর বেঁধে দেওয়া সময়সীমা (Deadline) শেষ হলেই ইরান (Iran)-এর উপর নামতে পারে ভয়ঙ্কর হামলা। সকালেই ট্রুথ সোশ্যালে ভয় ধরানো পোস্টে জানিয়ে দেন, “আজ রাতেই গোটা সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে।” গোটা বিশ্ব তখন কার্যত নিঃশ্বাস আটকে অপেক্ষা করছে।
টার্গেট লিস্ট (Target List) তৈরি—ব্রিজ (Bridge), পাওয়ার প্ল্যান্ট (Power Plant), জল পরিকাঠামো (Water Infrastructure)। ইতিমধ্যেই তেহরানের একটি বড় সেতু ধ্বংসের দাবি করেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে ফক্স নিউজ (Fox News)-কে এক মার্কিন আধিকারিক জানান, আলোচনা (Talks) চলছে, “ভাগ্য ভাল হলে” দিনের শেষে সমাধান মিলতে পারে।
তেহরানে তখন অন্য ছবি। সরকার সমর্থকদের ‘হিউম্যান চেইন’ (Human Chain) গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে। সাধারণ মানুষ, ছাত্র, শ্রমিক—সকলেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে, নিজেদের শরীর দিয়ে রক্ষা করতে চাইছে দেশের সম্পদ। একই সময়ে ইজরায়েল (Israel) রেল ও সেতুতে হামলা চালাচ্ছে, আর আমেরিকা (US) আঘাত হানছে খার্গ দ্বীপ (Kharg Island)-এর তেল রফতানি কেন্দ্রে। যুদ্ধ থামার কোনও ইঙ্গিত নেই।
এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ (Islamabad) থেকে কূটনৈতিক উদ্যোগ। পাকিস্তানের (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি (Ceasefire)-র প্রস্তাব দেন। শর্ত, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দেওয়া। হোয়াইট হাউস (White House) জানায়, প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বন্ধ দরজার আড়ালে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব (10-point Proposal) পৌঁছেছে আমেরিকার কাছে। যদিও প্রথমে তা খারিজ করা হয়, পরে ট্রাম্প একে “আলোচনার ভিত্তি” (Workable Basis) বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) ও মার্কিন রাজনীতিক লিন্ডসে গ্রাহাম (Lindsey Graham)-সহ একাধিক নেতা কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দেন।
অবশেষে সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে ট্রাম্প ঘোষণা করেন—দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত (Suspend Attack)। শর্ত—হরমুজ প্রণালী নিরাপদে খুলতে হবে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi) পাল্টা জানান, হামলা বন্ধ হলে তারাও সামরিক পদক্ষেপ (Defensive Operations) থামাবে।
ঘোষণার পরেই বাজারে প্রভাব—তেলের দাম (Crude Oil) ৯ শতাংশ কমে, শেয়ার সূচক (S&P, Nasdaq Futures) চাঙ্গা। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র (Missile) ছোড়া হয়েছে, যা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।
তবু আপাতত স্বস্তি। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ ধীরে ধীরে সরে গিয়েছে। অন্তত এখনই নামছে না বোমারু বিমান (Bombers)। প্রলয় আপাতত ঠেকেছে।