গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল, আমেরিকা যৌথভাবে ইরানে হামলা (Israel, US strikes on Iran) চালায়, নিহত হন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei Death)। পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। উত্তেজনা বাড়তে থাকে আরব দুনিয়ায় (Middle East tension)।

ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 14 March 2026 22:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের (Iran War) ১৫তম দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) হরমুজ প্রণালীকে (Hormuz Strait) নিরাপদ রাখতে অন্যান্য দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এই সঙ্কট মূলত ইরানের হরমুজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয়, কারণ এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস রফতানির পথ। ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকা ইতিমধ্যেই ইরানের কিছু সামরিক অবকাঠামো ধংস করেছে, তবে হুমকি এখনও থেকে গেছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনী শীঘ্রই হরমুজ প্রণালীর (Hormuz Strait) মধ্য দিয়ে ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপদে পার করার কাজ শুরু করবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, “অনেক দেশ, বিশেষ করে যারা ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করায় প্রভাবিত হচ্ছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে যাতে প্রণালী খোলা ও নিরাপদ থাকে।” ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানের সামরিক শক্তি ১০০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে, কিন্তু তেহরান এখনও ড্রোন, মাইন বা ক্ষুদ্র-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করতে পারে।
এদিকে তিনি এও সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে থাকে, তাহলে ইরানের তেল অবকাঠামোই পরবর্তী টার্গেট হতে পারে। বিশেষ করে, ইতিমধ্যেই খার্গ দ্বীপের প্রায় ৮০টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে, যা ইরানের তেল রফতানির প্রধান টার্মিনাল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল, আমেরিকা যৌথভাবে ইরানে হামলা (Israel, US strikes on Iran) চালায়, নিহত হন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei Death)। পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। উত্তেজনা বাড়তে থাকে আরব দুনিয়ায় (Middle East tension)। এরপরই মার্চের শুরুর দিকেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। হরমুজ বিশ্বব্যাপী তেলের গুরুত্বপূর্ণ রফতানি পথ, প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং প্রায় ২০ শতাংশ বৈশ্বিক এলএনজি লেনদেনে ব্যবহৃত হয়। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই তাঁর প্রথম ভাষণে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই প্রণালী বন্ধ রাখতে হবে আমেরিকার উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর উপর আক্রমণ হতে পারে।
ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, চিন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন এবং অন্যান্য দেশ এই সঙ্কট মোকাবিলায় জাহাজ পাঠাবে। তাঁর মতে, এটি হরমুজ প্রণালীকে আরও কোনও হুমকির মুখে পড়া থেকে রক্ষা করবে। ট্রাম্পের বার্তায় স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রণালী খোলা রাখা এবং তেলের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে, ইরান 'বন্ধুত্বের' খাতিরে ভারতের জাহাজ হরমুজ দিয়ী যাওয়ায় ছাড় দিয়েছে। আমেরিকার সঙ্গেও ভাল সম্পর্ক দিল্লির। ট্রাম্পের 'বন্ধু' দেশগুলিকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বানে ভারতের তরফে সাড়া মিলবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার জানায়নি দিল্লি।
বৃহস্পতিবারই ফোনে কথা হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে। আলোচনায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মোদীকে বিস্তারিত জানান এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলি নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করেন, সব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে এবং কূটনৈতিক পথে সমাধান হওয়া উচিত।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দিনে ভারতের বিদেশমন্ত্রী ও ইরানের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে তিনবার কথা হয়েছে। তিনি বলেন, “শেষবারের আলোচনায় মূলত সমুদ্রপথে জাহাজের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর বেশি কিছু বলা এখনই সময়ের আগে হয়ে যাবে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফোনে কথা বলেন তাঁর ইরানি সমকক্ষ আরাঘচির সঙ্গে। পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান সংকট শুরু হওয়ার পর এটি ছিল তাঁদের চতুর্থ ফোনালাপ।