মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মধ্যে নীতি ও রাজনৈতিক বিল নিয়ে দ্বন্দ্ব তীব্রতর হচ্ছে। দুই ব্যক্তিত্বের সংঘাত আমেরিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলছে।

ট্রাম্প ও মাস্কের সংঘাত।
শেষ আপডেট: 6 June 2025 10:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতির খবর আর চাপা নেই। উল্টে প্রকাশ্যে শুরু হয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি। ট্রাম্প স্পষ্ট করেই তাঁর প্রাক্তন উপদেষ্টা মাস্কের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক মন্তব্য করে বলেছেন, মাস্কের নীতি-সংক্রান্ত ‘মেগা-বিল’ নিয়ে তার সমস্যা হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতিতে তিনি গভীরভাবে হতাশ। মাস্কও পাল্টা আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য অস্বীকার করে বলেছেন, ট্রাম্পের এই দাবি মিথ্যা।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, 'ইলন মাস্ক এবং আমার সম্পর্ক আগে খুব ভাল ছিল, কিন্তু এখন জানি না, ভবিষ্যতে কী হবে। মাস্কের আচরণ আমাকে হতাশ করেছে, কারণ তিনি একসময় বিলের অনেক দিক ভালভাবেই বুঝেছিলেন।'
মাস্কের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ক্ষোভ মূলত তাঁর নীতি-বিষয়ক পদক্ষেপ এবং স্পেসএক্স ও টেসলা কোম্পানির বড় পরিকল্পনা নিয়ে। মাস্ক অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, '৭৮ বছর বয়সী প্রেসিডেন্টের এই মতামত সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।'
মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের এক পর্যায়ে, ট্রাম্পের অফিস থেকে মাস্কের আনুষ্ঠানিক বিদায়ের অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সময় মাস্ক কালো চশমা পরে উপস্থিত হয়ে অবাক করার মতো কথা বলেন। বলেন, তাঁর চোখে কালশিটে পড়েছে, ছেলের সঙ্গে খেলতে গিয়ে, তবে এই দাগ তাঁর সরকারি কেরিয়ারের বর্তমান পরিস্থিতিরও প্রতীক।
ট্রাম্প একথা পরে দাবি করেন, মাস্ক নিজের মতো থাকতে চান এবং কোনও কিছুতেই তাঁর কোনও পরিবর্তন হয় না।
সম্প্রতি ট্রাম্প মাস্কের সরকারি চুক্তি বাতিল করার হুমকি দিলে মাস্কও পাল্টা জানিয়ে দেন, তিনি স্পেসএক্সের মহাকাশযান 'ড্রাগন' তৈরি করবেন না। নাসা মহাকাশ সংস্থার নেতৃত্বের জন্য মনোনীত প্রার্থী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও জানান তিনি। ট্রাম্প এই নিয়ে বলেন, 'মাস্ক এমন কিছু পদক্ষেপ করছেন যেগুলো আমার বিরক্তির কারণ।'
পাশাপাশি, ট্রাম্পের ‘বড়, সুন্দর বিল’ যা সরকারের ব্যয় ও কর নীতিকে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু মাস্ক এই বিলকে ‘জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
শুধু তাই নয়, মাস্ক রিপাবলিকানদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিলটি শেষ করা হোক এবং বিকল্প একটি পরিকল্পনা আনা হোক যা অর্থনৈতিক ঘাটতি কমাতে পারে না।’
এই দ্বন্দ্বই দিনকেদিন আমেরিকার রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। তবে এই বিরোধের পিছনে আছে মাসের আগের ঘটনাবলি। মাস্ক ট্রাম্পের জয়ের পিছনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সবই অতীত। ট্রাম্প এখন মনে করেন, মাস্ক ছাড়া তিনি নির্বাচনে জয়ী হতে পারতেন। অন্যদিকে মাস্ক দাবি করছেন, ট্রাম্প তাঁর সাহায্য ছাড়া সফল হতে পারতেন না।
এই পরস্পরের সংঘাতের মধ্যেই মার্কিন রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে এবং আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-মাস্কের দ্বন্দ্ব কেমন রূপ নেবে, তা গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছে।