এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, চিন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে হওয়া আলোচনায় ছিল। এই মন্তব্যের পরই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বেজিংয়ের ভূমিকা।

ট্রাম্প- শি জিনপিং
শেষ আপডেট: 8 April 2026 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩৮ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধবিরতি (US-Iran ceasefire)। মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ। ঘটনার প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা পর সামনে এল চমকপ্রদ তথ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করলেন—চিন এই সমঝোতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, চিন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে হওয়া আলোচনায় ছিল। এই মন্তব্যের পরই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বেজিংয়ের ভূমিকা।
আরেক সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চিন নেপথ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতা চালায় এই ঘটনায়। সরাসরি সামনে না এলেও, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার পথে আনতে ভূমিকা নেয় বেজিং (China’s role in Middle East)। এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের মতো দেশগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করেছে তারা।
চিনের এই সক্রিয়তার পিছনে কৌশলগত কারণও রয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য চিন সফরে যাওয়ার কথা ট্রাম্পের। আগে মার্চের শেষে এই সফরের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে যায়। তাই সংঘাত থামানো বেজিংয়ের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, আলোচনার সময়জুড়ে চিনা আধিকারিকরা ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। যদিও এই ভূমিকা নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি চিনের বিদেশ মন্ত্রক। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চিনা দূতাবাস আগেই জানিয়েছিল, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করছে বেজিং।
এদিকে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপও স্পষ্ট হচ্ছে। আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা, যেখানে যুদ্ধবিরতির শর্ত চূড়ান্ত করা হতে পারে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, সরাসরি বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হচ্ছে জাহাজ চলাচলের জন্য। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় ইরান ও ওমান-এর সমন্বয়ে জাহাজ চলাচলে ফি ধার্য করা হতে পারে, যা পুনর্গঠনের কাজে লাগানো হবে। এই রুটে জাহাজ চলাচল ইরানের সেনার তত্ত্বাবধানে নিয়ন্ত্রিত হবে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির আড়ালে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ—যেখানে সামনে না থেকেও বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠছে চিন।