ট্রাম্পের আগে অন্তত এক ডজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিউবার উপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সে দেশের অভ্যন্তরে প্রতিবিপ্লব ঘটানোর প্রবল চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও প্রেসিডেন্টই কিউবায় শাসক বদলি দেওয়ার পথে হাঁটেননি। এখন দেখার ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত কী করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 17 March 2026 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে কিউবায় সরকার পরিবর্তনে উঠে পড়ে লেগেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। হোয়াইট হাউসের তরফে কিউবাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল স্বেচ্ছায় সরে না গেলে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলো মাদুরোর (Nicolo Maduro) দশা হবে তাঁর।
অর্থাৎ কিউবার প্রেসিডেন্টকেও অপহরণের হুমকি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মাদক চোরাচালানের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তাঁর দেশ থেকে অপহরণ করে আমেরিকার জেলে আটকে রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন আইনে তাঁর বিচার হবে। ট্রাম্পের সাফ কথা এবার ফিদেল কাস্ত্রোর দেশে কমিউনিজমের অবসান চান তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, আজকের দুনিয়ায় কোনও দেশে কমিউনিজম থাকতে পারে না। ওই মতবাদ প্রগতি ও উন্নতির পরিপন্থী।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, আশা করছি অল্প দিনের মধ্যেই কিউবার দখল নিতে পারব। সেই সঙ্গে দম্ভভরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলিতে আমার যা ইচ্ছে তাই করতে পারি।
লক্ষণীয়, ট্রাম্প এমন সময় এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যখন কিউবা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছে। এই আলোচনা ফিদেল কাস্ত্রো ক্ষমতা দখল করার পর থেকে গত ৬৭ বছরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে বলেছে, কিউবার সঙ্গে আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদল স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে প্রেসিডেন্ট মিগুয়েলকে সরতেই হবে। তাঁর জায়গায় কে প্রেসিডেন্ট হবেন সেটা কিউবার মানুষ ঠিক করবে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল বলেছেন তিনি নিজে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তবে সেই আলোচনা হতে হবে সমতা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে। এদিকে ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবাকে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। অন্য দেশগুলিকেও তারা বলেছে, কিউবাকে জ্বালানি সরবরাহ করা যাবে না। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে কিউবার বর্তমান সরকার কী পদক্ষেপ করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের আগে অন্তত এক ডজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিউবার উপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সে দেশের অভ্যন্তরে প্রতিবিপ্লব ঘটানোর প্রবল চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও প্রেসিডেন্টই কিউবায় শাসক বদলি দেওয়ার পথে হাঁটেননি। এখন দেখার ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত কী করেন।