বর্তমানে ইয়েমেনে আনুমানিক ৩.৮ লক্ষ অভিবাসী এবং শরণার্থী রয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। তাদের অনেকে এখন আশ্রয় শিবিরে, অনেকেই নিখোঁজ।

ঘটনাস্থলের ছবি (সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 4 August 2025 07:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভয়াবহ নৌকাডুবিতে মৃত্যু হল অন্তত ৬৮ জন আফ্রিকান অভিবাসীর। ইয়েমেন উপকূলে এই দুর্ঘটনায় নিখোঁজ আরও ৭৪। রবিবার ১৫৪ জন অভিবাসীকে নিয়ে একটি নৌকা উল্টে যায় গালফ অফ অ্যাডেনে। ঘটনাটি ঘটেছে ইয়েমেনের দক্ষিণ প্রদেশ আবইয়ান উপকূলে। খবর নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রসংঘের অভিবাসন সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (IOM)।
স্থানীয় স্বাস্থ্য আধিকারিক আবদুল কাদির বাজামিল জানিয়েছেন, রাত পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলেছে। এখনও পর্যন্ত মাত্র ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জন ইথিওপিয়ান নাগরিক এবং একজন ইয়েমেনের। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
ঘটনার নেপথ্যে আছে আফ্রিকার অভিবাসীদের দীর্ঘদিনের দুঃসাহসিক যাত্রাপথ। বেশিরভাগই ইথিওপিয়া এবং সোমালিয়া থেকে ইয়েমেন হয়ে সৌদি আরব বা অন্য উপসাগরীয় দেশে পৌঁছতে চান কাজের খোঁজে। এই সমুদ্রপথ পৃথিবীর অন্যতম বিপজ্জনক এবং ব্যস্ত অভিবাসন রুট বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘের অভিবাসন সংস্থা। এদের ইয়েমেন শাখার প্রধান আবদুসাত্তোর এসোয়েভ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এ বছর এখনও পর্যন্ত ৬০ হাজারেরও বেশি অভিবাসী ইয়েমেনে প্রবেশ করেছেন। যদিও সংখ্যাটা ২০২৩ সালের ৯৭,২০০-র তুলনায় কিছুটা কম। এর কারণ সম্ভবত টহলদারিতে কড়াকড়ি।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, শুধু গত বছরেই এই সমুদ্রপথে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৫৮ জন। গত এক দশকে নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ২,০৮২ অভিবাসী, যার মধ্যে ৬৯৩ জন নিশ্চিতভাবে জলে ডুবে মারা গেছেন।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশের ভিতরে এবং বাইরে অভিবাসীদের স্রোত বেড়েছে। দেশজুড়ে মানবিক সংকট এবং নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি সত্ত্বেও অনেকে ইয়েমেনকেই গন্তব্য করছেন বা অন্য দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন। অনেকে আবার যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় আটকে পড়েছেন, মুখোমুখি হচ্ছেন নিপীড়ন, দারিদ্র্য এবং বন্দিদশার।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে হুথি বিদ্রোহী এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার একটি অস্ত্রবিরতির চুক্তিতে পৌঁছনোর পর অল্প হলেও সহিংসতা কমেছে। তবুও আফ্রিকার দিক থেকে সমুদ্রপথে অভিবাসনের ঝুঁকি এখনও রয়েছে এবং সেই ঝুঁকিই রবিবারের মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষাপট।
বর্তমানে ইয়েমেনে আনুমানিক ৩.৮ লক্ষ অভিবাসী এবং শরণার্থী রয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। তাদের অনেকে এখন আশ্রয় শিবিরে, অনেকেই নিখোঁজ।
এদিকে, উদ্ধারকারীদের আশা, আরও কিছুজনকে জীবিত খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু সমুদ্রের গভীরে হারিয়ে যাওয়া বহু প্রাণ আর হয়তো কোনওদিনই ফিরবে না।