আপাতত যা পরিস্থিতি, ১০০ জন মার্কিন সেনেটরের মধ্যে ৮৫ জনই রাশিয়ার মিত্রদের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর বিলকে সমর্থন জানিয়েছেন বলে দাবি করেছে সংবাদ সংস্থা।

ন্যাটো প্রধানের হুঁশিয়ারিতে চাপে ভারত (ছবি- সংবাদ সংস্থা)
শেষ আপডেট: 16 July 2025 07:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে চরম সতর্কবার্তা দিলেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। বুধবার মার্কিন সেনেটরদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, চিন, ভারত বা ব্রাজিল যদি রাশিয়ার সঙ্গে তেল-গ্যাস বা অন্যান্য ব্যবসা চালিয়ে যেতে থাকে এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি সংক্রান্ত আলোচনাকে গুরুত্ব না দেন, তবে এই তিন দেশকে চরম অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তাঁর হুঁশিয়ারি, 'এই দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ চাপানো হতে পারে।'
রুটে বলেন, 'যদি আপনি চিনের প্রেসিডেন্ট হন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন বা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হন এবং রাশিয়ার সঙ্গে তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত বাণিজ্যিক চুক্তি রয়েছে, তাহলে শুনে নিন। পুতিন যদি শান্তি আলোচনায় গুরুত্ব না দেন, তবে এই পরিস্থিতির খেসারত আপনাদের কড়ায়-গণ্ডায় দিতে হবে।'
তাঁর পরামর্শ, শান্তি আলোচনা নিয়ে এবার এই তিন দেশের নেতারা যেন সরাসরি ফোন পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন। না হলে যা হবে, তা এই দেশগুলির জন্য চরম ধাক্কা হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অবস্থানকেই এই হুঁশিয়ারির পেছনে কারণ হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা। সদ্য ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট মিসাইল দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন আমেকরিকার প্রেসিডেন্ট। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত দেশগুলোর উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হতে পারে। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, পুতিন ৫০ দিনের মধ্যে যদি শান্তি আলোচনায় না বসেন, তবে রাশিয়ার উপর সরাসরি এবং তার সঙ্গী দেশগুলির উপর পরোক্ষ (সেকেন্ডারি) নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।
ট্রাম্প বলেছেন, 'আমরা সেকেন্ডারি স্যাংশন দিতে পারি। সেটা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। আমাদের জন্য এটা সহজ কাজ, সেনেট বা হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস ছাড়াও এটা করা সম্ভব।'
আপাতত যা পরিস্থিতি, ১০০ জন মার্কিন সেনেটরের মধ্যে ৮৫ জনই রাশিয়ার মিত্রদের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর বিলকে সমর্থন জানিয়েছেন বলে দাবি করেছে সংবাদ সংস্থা। এই প্রেক্ষিতে, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের বৃহত্তম ক্রেতাদের তালিকায় রয়েছে ভারত, চিন ও তুরস্ক।
ভারতের জন্য এ এক জটিল পরিস্থিতি। কারণ, রাশিয়ার সঙ্গে ক্রমেই শক্তিশালী হয়েছে দিল্লির 'জ্বালানি' সম্পর্ক। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে জ্বালানির দাম বাড়া এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে মার্কিন এই চাপের জবাবে রাশিয়ার উপ-বিদেশমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেন, 'আলোচনায় বসতে রাশিয়া প্রস্তুত, কিন্তু এই ধরনের চরমসীমা বা আলটিমেটাম কোনও সমাধান আনবে না।'