ভারত অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তিকে নস্যাৎ করেছে। নয়াদিল্লির সাফ কথা, দেশের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও বাজারের চাহিদার উপর নির্ভরশীল।

জেডি ভ্যান্স এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 25 August 2025 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়াকে (Russia) চাপে রাখতেই ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক (Tariff) চাপিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)! কয়েকদিন আগে এমনই যুক্তি দিয়েছিল হোয়াইট হাউস (White House)। এবার সেই একই সুরে কথা বলে দুই দেশের সম্পর্কের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স (JD Vance)। তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাশিয়াকে কোণঠাসা করতেই নাকি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যে ভারতের আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক (India US Tariff) বসিয়েছে, তার মূল লক্ষ্য রাশিয়ার তেল রফতানিতে (Oil Trade) চাপ তৈরি করা - এমনটাই দাবি মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, “ভারতের উপর শুল্ক চাপিয়ে রাশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথকে কঠিন করে দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প এভাবেই আগ্রাসী অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছেন।”
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে আমেরিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবে বলেও আশাবাদী তিনি। ভ্যান্সের কথায়, “গত কয়েক সপ্তাহেই দুই পক্ষ থেকেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছাড় মিলেছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, রাশিয়া যদি হত্যালীলা থামায় তবে তারা আবারও বিশ্ব অর্থনীতিতে ফিরতে পারবে, নইলে বিচ্ছিন্নই থাকতে হবে।”
হোয়াইট হাউসের অভিযোগ, রাশিয়ার ছাড় দেওয়া তেল কিনেই চলেছে ভারত, আর সেই অর্থেই ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাচ্ছে মস্কো। এর জেরে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক দ্বিগুণ করেছে, যার মধ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্কও অন্তর্ভুক্ত। তবে একই কারণে ইউরোপ বা চিনের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের কড়া পদক্ষেপ না নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারত অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তিকে নস্যাৎ করেছে। নয়াদিল্লির সাফ কথা, দেশের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও বাজারের চাহিদার উপর নির্ভরশীল। পশ্চিমী দেশগুলি রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ এড়িয়ে যাওয়ার পর ভারতই সস্তায় সেই তেল কিনেছে।
এই বিষয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, “ব্যবসাবান্ধব মার্কিন প্রশাসনের লোকেরা যখন অন্যকে ব্যবসার জন্য দোষ দেয়, তখন বিষয়টা খানিকটা হাস্যকরই লাগে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আপনারা যদি ভারতের থেকে তেল বা পণ্য কিনতে না চান, কিনবেন না। কাউকে তো জোর করা হচ্ছে না। কিন্তু বাস্তব হল ইউরোপ কেনে, আমেরিকাও কেনে। তাহলে এই প্রেক্ষিতে আপত্তি কেন?” প্রশ্ন তাঁর।