ইরানের এক সংবাদসংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, যাঁদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে শুধু গুপ্তচরবৃত্তি নয়, একজন ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ হত্যায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম পাচারের অভিযোগও ছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 June 2025 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েলের (Israel) গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের (Mossad) সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন জনকে ফাঁসি দিল ইরান (Iran)। পাশাপাশি দেশ জুড়ে তল্লাশি চালিয়ে ৭০০ জনকে গ্রেফতার করেছে তাঁরা, যাঁদের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের হয়ে তথ্য পাচার বা নাশকতার কাজ করার অভিযোগ তুলেছে তেহরান।
ইরানের এক সংবাদসংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, যাঁদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে শুধু গুপ্তচরবৃত্তি নয়, একজন ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ হত্যায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম পাচারের অভিযোগও ছিল। যদিও ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেনি প্রশাসন। পাশাপাশি যে ৭০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে মোসাদের হয়ে নানা রকম তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তি পাচার ও গুপ্ত হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা (Iran Israel Ceasefire) করেছিলেন। কিন্তু তারপরও সংঘাত বন্ধ হয়নি। ইরান সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এই দাবি করে তেহরানে হামলা করে ইজরায়েল। যদিও সেই দাবি নস্যাৎ করেছে ইরান। এরপরই তেহরানের এই কড়া পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে শোরগোল। কিন্তু নতুন করে কোনও যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
কীভাবে শেষ হল ১২ দিনের সংঘর্ষ? ইজরায়েল প্রথমে আচমকা হামলা চালায় ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে। তার জবাবে ইরানও মিসাইল হানে মার্কিন ঘাঁটিতে। পাল্টা হামলা চলে। তারপর ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ঘোষিত হয় যুদ্ধবিরতি। তবে তার আগে ইরানে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সেনা।
আন্তর্জাতিক একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইরানে হামলার পর প্রশাসনিক বৈঠকে বসেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখান থেকেই তিনি ইজরায়েল প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে (Benjamin Netanyahu) ফোন করার নির্দেশ দেন। তাঁকে স্পষ্টত বলেন, আর যুদ্ধ নয় এবার শান্তির পথে হাঁটতে হবে। এই ফোনালাপের পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফোন করেছিলেন কাতারের রাষ্ট্রপ্রধান তামিম বিন হামাদকে।
এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁকে অনুরোধ করেন যাতে কাতার তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসে যুদ্ধ থামাতে রাজি করায়। শেষমেশ কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান রাজি হয় যুদ্ধবিরতিতে।