
শেষ আপডেট: 9 November 2023 11:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাস্তায় লোকজন পাগলের মতো ছুটছে। কেউ শিশুদের কোলে-বুকে আঁকড়ে, কেউ পরিবারের বয়স্কদের হাত ধরে উর্ধ্বশ্বাসে দৌড়চ্ছে। বিধ্বস্ত শরীর, গলা শুকিয়ে কাঠ, তাও সকলে চিৎকার করে বলছে, “পালাও, সবাই পালাও। ওরা বোমা ফেলবে।”
উত্তর ও দক্ষিণ গাজার ছবিটা এখন এমনই। ইজরায়েলের লাগাতার বোমাবর্ষণে শ্মশানে পরিণত হয়েছে গাজা ভূখণ্ড। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে হাজার দশেক মানুষের প্রাণ গেছে। বেশিরভাগ পরিবারই আর নিঃস্ব, বাস্তহারা। যে গুটিকয়েক মানুষ বেঁচে আছে, তারা এখন শেষ সম্বল আঁকড়ে পালানোর চেষ্টা করছে।
যুদ্ধের এক মাসের মাথায় এখন দলে দলে লোক উত্তর গাজা থেকে সালা আল-ডিন রোড ধরে দক্ষিণের দিকে পালাচ্ছেন। গাজা স্ট্রিপের এটিই প্রধান সড়ক ও মূল উদ্ধারের পথ। উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ছুটে চলেছেন। ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স জানিয়েছে, সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টো অবধি ওই রাস্তা নিরাপদ। ওই সময়টাতেই দলে দলে লোকজন পালানোর চেষ্টা করছেন। অনেককেই দেখা গেছে, সাদা পতাকা হাতে ছুটছেন আর চিৎকার করছেন, “পালাও, পালাও।”
উত্তর থেকে দক্ষিণ গাজার দিকেই আশ্রয়ের খোঁজে পালাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু সেখানেও মাঝেমধ্যে বোমা ফেলছে ইজরায়েলি সেনা। গাজার সাধারণ মানুষজন বলছেন, শ্বাস নিলে বারুদ পোড়া গন্ধ। দমবন্ধ হয়ে আসে। চারদিকে মড়া পচা গন্ধে বমি আসে। সর্বক্ষণ তটস্থ থাকতে হয় এই বুঝি উড়ে এল রকেট। কার বাড়ির লোকজন এবার বলি হবেন, সেই চিন্তাতেই থাকেন সকলে।
এক মাসের যুদ্ধের বলি গাজার ১০ হাজারেরও বেশি প্যালেস্তিনীয় নাগরিক। অর্ধেকের বেশি মহিলা, শিশু! আহতের সংখ্যা গুনে শেষ করা যাবে না। এই পরিস্থিতিতেও ইজরায়েলি সেনা ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে হাসপাতাল এবং শরণার্থী শিবিরগুলিতে। বন্ধ করে দিয়েছে জ্বালানি, ওষুধ-সহ অত্যাবশকীয় পণ্যের সরবরাহ। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। গাজার হাসপাতালগুলিতে বিনা চিকিৎসাতেই মৃত্যু হচ্ছে জখমদের।
গাজা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ঢুকে পড়েছে ইজরায়েলি সেনা। চারদিক থেকে গাজা ভূখণ্ডকে ঘিরে ফেলে ভয়ঙ্কর বোমাবর্ষণ শুরু করেছে ইজরায়েল। মুহুর্মুহু গর্জে উঠছে যুদ্ধট্যাঙ্ক। ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছে, মাটির নীচে হামাসদের সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়েছে সেনা। সেখানে গিয়ে হামলা চলছে।