দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওসামা বিন লাদেনের ২০০১ এর ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদী হামলায় কোনও যোগ ছিল না বলে দাবি করলেন তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লা মুজাহিদ। আল কায়দা প্রতিষ্ঠাতার সেদিনের নাশকতায় জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ নেই, বলেছেন তিনি। আফগানিস্তানে যুদ্ধ লাগাতেই লাদেনের যোগসাজশের অজুহাত দিয়েছিল আমেরিকা, সওয়াল করেছেন তালিবান নেতাটি।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে জাবিউল্লা বলেছেন, যুদ্ধের ২০ বছর কেটে যাওয়ার পরও ৯/১১ র সন্ত্রাসবাদী হামলায় ওসামার জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর কোনও যুক্তিই নেই, আমেরিকানরা যুদ্ধের অজুহাত হিসাবে লাদেনকে ব্যবহার করেছিল মাত্র।
আফগানিস্তান সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র হয়ে উঠবে না, এমন প্রতিশ্রুতি কী করে দিচ্ছেন, প্রশ্ন করা হলে জাবিউল্লা জানান, তাঁর বারংবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আফগান মাটি সন্ত্রাসবাদের নিরাপদ ঘাঁটি হবে না। তিনি বলেন, লাদেন যখন আমেরিকার কাছে সমস্যা হয়ে ওঠেন, তখন ছিলেন আফগানিস্তানে। কিন্তু তাঁর যোগসাজশের কোনও প্রমাণ নেই। আমরা এখন কথা দিচ্ছি, আফগান ভূখণ্ডকে কারও বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না।
মহিলাদের সুরক্ষা ও তালিবান জমানায় তাদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে কিনা, সেটাই আফগানিস্তানে এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের ব্যাপার। যদিও জাবিউল্লা বলেন, আমরা মহিলাদের শ্রদ্ধা করি, তাঁরা আমাদের বোন। তাদের ভীত হওয়া উচিত নয়। তালিবান দেশের জন্য লড়েছে। মহিলাদের ভয় নয়, আমাদের নিয়ে গর্ব বোধ করা উচিত।
তালিবান ফেরার পরই তাদের ভয়ে আফগানিস্তান ছাড়তে মরিয়া দেশবাসীর একাংশ। জাবিউল্লা বলেন, আমরা চাই না, আমাদের দেশবাসী দেশ ছেড়ে চলে যান। অতীতে তাঁরা যা-ই করেন থাকুন না, আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। দেশের মানুষকে আমাদের চাই। অল্পবয়সি, শিক্ষিত লোকজন প্রয়োজন আমাদের। কিন্তু তাঁরা দেশ ছাড়তে চাইলে, সেটা তাঁদের ব্যাপার।
১৫ আগস্ট তালিবান গোটা আফগানিস্তান কব্জা করার পর শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলে। তারপরও অবশ্য ভয়ে বহু আফগান কাবুল বিমানবন্দর ছোটেন আফগানিস্তান ছাড়ার বিমান ধরতে।