দ্য ওয়াল ব্যুরো: তালিবানের (taliban) মহিলাদের দাবিয়ে রাখার মনোভাবের (anti woman mindset) পরিচয় মিলল ফের। শরিয়তি বিধান মেনে নারী স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। কিন্তু কথার খেলাপ হয়েছে ইতিমধ্যেই। তালিবান মুখপাত্রই মহিলাদের মন্ত্রিসভায় না রাখার পক্ষে সাফাই দিয়েছেন, ওটা ওদের বোঝা হতে পারে। সন্তান জন্ম দেওয়াই মেয়েদের কাজ। সেটাই করুক ওরা! এবার তালিবান আফগানিস্তানে ছেলেদের স্কুল (boys' school) খুলে দেওয়ার কথা বললেও মেয়েদের (girls) ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় সামিল হতে দেবে না তারা। আজ তালিবান সরকারের শিক্ষামন্ত্রক জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সব পুরুষ শিক্ষক, ছাত্র তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাবে। কিন্তু ছাত্রী বা শিক্ষিকাদের কথা উল্লেখ করা হয়নি তাতে। দি গার্ডিয়ান সংবাদপত্রের খবর, নয়া নির্দেশের পর গোটা বিশ্বে আফগানিস্তানই একমাত্র দেশ যারা দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক অংশকে উচ্চশিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।
ইতিমধ্যেই তালিবানি শাসনে মেয়েদের শিক্ষার হাল নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ইউনিসেফ (unicef)। সংস্থার প্রধান হেনরিয়েটা ফোরে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, তিনি গভীর উদ্বিগ্ন এজন্য যে, কট্টরপন্থী সংগঠনটি লৌহশৃঙ্খল শাসনে শরিয়তের বিধান চাপিয়ে মেয়েদের ক্লাসরুমে ফিরতে দেবে না কোনওদিন। কিন্তু মেয়েদের পিছিয়ে রাখা যাবে না, উচিতও নয়। আর দেরি না করে বয়স্ক ছাত্রী সহ সব মেয়ে যাতে আবার পড়াশোনা শুরু করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। সেজন্য শিক্ষিকাদের আবার পড়ানো শুরু করতে হবে।
মাধ্যমিক স্তরের স্কুলগুলিতে মূলত ১৩-১৮ বয়সসীমার পডুয়ারাই আসে। তাদের লিঙ্গ অনুসারে আলাদা স্কুলে যেতে হয়। কোভিড ১৯ মহামারীর সময় স্কুলগুলি বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ ছিল। তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে তালা পড়ে গিয়েছে স্কুলের দরজায়।
২০০১ সালে তালিবান হটে যাওয়ার পর থেকে নারী শিক্ষায় ভাল অগ্রগতি হয়েছিল। স্কুলের সংখ্যা বেড়েছিল, মেয়েদের স্বাক্ষরতার হার দ্বিগুণ বেড়ে ৩০ শতাংশ হয়েছিল।
এদিকে প্রাথমিক স্কুল খুলেছে আবার। ছেলে, মেয়েরা আলাদা বসছে। সম্প্রতি তালিবান মহিলা অধিকার মন্ত্রকই তুলে দিয়েছে, তার বদলে এসেছে নীতি, সত্গুণাবলী প্রসার, পাপ রোধ মন্ত্রক, যার কাজ হবে নীতি পুলিশগিরি করা।