সাজিদের পরিবার হায়দরাবাদেই থাকত, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর থেকেই সম্পর্ক প্রায় শেষ হয়ে যায়। পারিবারিক বিবাদের কারণে আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না বললেই চলে।

সিডনি গণহত্যা
শেষ আপডেট: 17 December 2025 07:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বিখ্যাত বন্ডাই সৈকতে 'হনুক্কা' (Hanukkah) উৎসব চলাকালীন গুলি চালানোর ঘটনায় গোটা বিশ্ব স্তব্ধ (Boni Beach Shooting)। এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৬ জন। অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ছিল একটি সন্ত্রাসবাদী হামলা। এই হামলার সঙ্গে জড়িত দুই অভিযুক্তের মধ্যে একজন ভারতের হায়দরাবাদের বাসিন্দা (Sydney attacker India link) ছিলেন বলে জানিয়েছে তেলঙ্গনা পুলিশ। প্রায় তিন দশক আগে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দিলেও ভারতীয় পাসপোর্টই ব্যবহার করতেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্ডাই বিচে গণহত্যার ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তি সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। বাবা সাজিদ আক্রম (৫০) ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে মারা যান। তাঁর ছেলে নবীদ আক্রম (২৪) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কড়া পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছে তাঁকে।
তেলঙ্গানার ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ জানিয়েছেন, সাজিদ আক্রমের (Sajid Akram India Link) জন্ম হায়দরাবাদে। তিনি সেখান থেকেই বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে পড়াশোনার জন্য ছাত্র ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় যান। পরে সেখানেই পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেন। গত ২৭ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়াতেই ছিলেন সাজিদ।
আরও জানা গেছে, সাজিদের পরিবার হায়দরাবাদেই থাকত, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর থেকেই সম্পর্ক প্রায় শেষ হয়ে যায়। পারিবারিক বিবাদের কারণে আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না বললেই চলে। এমনকি ২০১৭ সালে বাবার মৃত্যুর সময়েও তিনি শেষকৃত্যের জন্য ভারতে নিজের বাড়িতে যাননি। সাজিদ শেষবার হায়দরাবাদে গিয়েছিলেন ২০২২ সালে।
অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সাজিদ ভেনেরা গ্রোসো নামে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এক মহিলাকে বিয়ে করেন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দুই সন্তানই অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করায় তারা সে দেশের নাগরিক। যদিও সাজিদ নিজে ভারতীয় পাসপোর্টই (Indian passport controversy) বহাল রেখেছিলেন।
রবিবার বন্ডাই বিচে ইহুদি হনুক্কা উৎসব চলাকালীন আচমকা গুলি চালানো হয়। পরিবার ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে এই হামলায় মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারাল পুলিশ কমিশনার জানান, এই হামলা আইএস প্রভাবিত সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বলেই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। হামলায় ব্যবহৃত একটি গাড়ি নবীদের নামে নথিভুক্ত ছিল। সেই গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে দেশি বোমা ও আইএস-এর সঙ্গে যুক্ত দুটি পতাকা।
এছাড়াও জানা গিয়েছে, হামলার এক মাস আগে বাবা-ছেলে ফিলিপিন্সে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁরা দাভাও শহরে ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। যদিও সেখানে কোনও জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তেলঙ্গনা পুলিশ স্পষ্ট করেছে, এই ঘটনার সঙ্গে ভারতের কোনও সংগঠন বা নেটওয়ার্কের যোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।