যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসে ফলের দোকান চালাতেন আহমেদ আল আহমেদ। সিডনির বন্ডি বিচে হানুক্কা উৎসবে হামলার সময় নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করে হামলাকারীর হাত থেকে বন্দুক কেড়ে নিয়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচান তিনি।

আহমেদ
শেষ আপডেট: 15 December 2025 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার সকালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির (Sydney) আইকনিক বন্ডি বিচে (Bondi Beach) হানুক্কা (Hanukkah) উৎসব চলাকালীন আচমকা গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে সবাই। হাজার হাজার মানুষের ভিড়, চিৎকার, এদিক-ওদিক ছুটে পালানোর চেষ্টা-সব মিলিয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। একের পর এক গুলি লাগছে গায়ে, মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন মানুষজন। ঠিক সেই মুহূর্তেই উপস্থিত বুদ্ধির জোরে অসংখ্য মানুষের প্রাণ বাঁচালেন এক ব্যক্তি।
আহমেদ আল আহমেদ (Ahmed Al Ahmed)। বয়স ৪৩। সিরিয়া (Syria) থেকে আসা এই দুই সন্তানের বাবা কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়া, হাতে কোনও অস্ত্র না নিয়েই ছুটে যান সশস্ত্র হামলাকারীর দিকে। ভিডিওতে ধরা পড়া সেই মুহূর্ত এখন সারা দুনিয়ায় ভাইরাল। দেখা যায়, পিছন দিক থেকে বন্দুকবাজকে ঝাঁপিয়ে ধরে রাইফেল কেড়ে নিচ্ছেন আহমেদ। তাঁর এই এক মুহূর্তের সাহসিকতায় আরও বড় রক্তক্ষয় যে আটকানো গিয়েছে, তা মানছেন সকলেই।
যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে বহু বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় এসে নতুন জীবন গড়েছিলেন আহমেদ। সিডনির দক্ষিণে সাদারল্যান্ড শায়ার (Sutherland Shire) এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকেন। ছোট একটি ফলের দোকান চালান। আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না তাঁর। পরিবারের কথায়, সবটাই ছিল একেবারে স্বতঃস্ফূর্ত। সিডনি মর্নিং হেরাল্ড (The Sydney Morning Herald)-কে আহমেদের এক আত্মীয় বলেন, “ও কাউকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, মাথায় আর কিছু ছিল না।”
হামলার সময় গুলিতে আহমেদের বাঁ হাত গায়ে গুলি লাগে। তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে সেন্ট জর্জ হাসপাতাল (St George Hospital)-এ। অস্ত্রোপচারও হয়েছে। হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁর খুড়তুতো ভাই মুস্তাফা (Mustafa) বলেন, “ও ঠিক হয়ে যাবে আশা করছি। এখন ও হিরো।” আহমেদের বাবার কথায়, নিরীহ মানুষকে বাঁচাতে পেরে ও ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
আহমেদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও (Donald Trump)। তিনি বলেন, “ও অত্যন্ত সাহসী মানুষ। অনেকের প্রাণ বেঁচেছে শুধুমাত্র ওর জন্য।”
হামলার সেই ভয়াল মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে আহমেদের আর এক আত্মীয় জোজাই আলকাঞ্জ (Jozay Alkanj) জানান, গুলি শুরু হতেই আহমেদ বলেছিলেন, “আমি হয়তো মরতে যাচ্ছি। আমার পরিবারের কাছে গিয়ে বলো, মানুষ বাঁচাতে গিয়েছিলাম।” তার পরই তিনি হামলাকারীর দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বন্ডি বিচে ইহুদি উৎসবকে টার্গেট করা হয়েছিল। এর পেছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে তবে চিহ্নিত দুজনের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ মিলেছে। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের, যার মধ্যে এক নাবালক রয়েছে। আহত হয়েছেন ৪২ জন। প্রায় ১,০০০ মানুষের জমায়েতে উঁচু বোর্ডওয়াক থেকে প্রায় ১০ মিনিট ধরে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। ৫০ বছরের হামলাকারীকে ঘটনাস্থলেই গুলি করে মারে পুলিশ। তার ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসন একে স্পষ্টভাবে সন্ত্রাসবাদ (Terrorism) বলে চিহ্নিত করেছে। জানা গিয়েছে, এই হামলাকারীদের একজনকে ছয় বছর আগে অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন (ASIO) ইসলামিক স্টেট (Islamic State) যোগের সন্দেহে নজরদারিতে রেখেছিল।