শীর্ষ আদালতের মতে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বিচারবিভাগের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও তা সর্বদা নিরবচ্ছিন্ন হতে পারে না। বিচারবিভাগের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শেষ আপডেট: 28 June 2025 07:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তন আনার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নেওয়া উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছে ফেডারেল আদালতগুলি। কিন্তু শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) নিম্ন আদালতগুলিকে তাদের সীমারেখা মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে ট্রাম্পকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
শীর্ষ আদালতের মতে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বিচারবিভাগের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও তা সর্বদা নিরবচ্ছিন্ন হতে পারে না। বিচারবিভাগের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তবে আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা যাবে না।
২০২০-র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই ট্রাম্প নাগরিকত্ব আইন বদলানোর ঘোষণা করেছিলেন। জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেন। ২১ জানুয়ারি তিনি এ বিষয়ে একটি নির্দেশও জারি করেন।
তবে তাঁর এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মামলা করে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন এবং আরও বেশ কয়েকটি সংগঠন। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত ২২টি রাজ্যও এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে আদালতে যায়।
‘জুস সোলি’ বা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তি দীর্ঘদিনের। ১৮৬৮ সালে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া যে কোনও শিশু, তার মা-বাবা বিদেশি হলেও, স্বাভাবিক নিয়মে নাগরিকত্ব পায়।
ট্রাম্প মনে করেন, এই আইনের জন্যেই অভিবাসী সমস্যা বেড়েছে। তিনি চেয়েছিলেন, অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ বন্ধ করতে। এ নিয়ে তাঁর পদক্ষেপ এখ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও নতুন নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করতে হলে ট্রাম্প প্রশাসনকে আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। সেক্ষেত্রে আইনি লড়াই আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।