এই উদ্যোগের ফলে শারীরিক বা ভৌগোলিক কারণে যারা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন না, তারা এবার বাড়ি বসেই ভোট দিতে পারবেন।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 27 June 2025 23:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে (Bihar , 1st State ) মোবাইল ফোন অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার (Voting Via Mobile Phone App) অনুমতি দিল বিহার।
রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার (Election Commission) দীপক প্রসাদ শুক্রবার সন্ধ্যায় এই অভিনব উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। আগামীকাল শনিবার পাটনা, রোহতাস এবং পূর্ব চম্পারণের ছ’টি পুরসভায় ভোটগ্রহণ হবে।
এই উদ্যোগের ফলে শারীরিক বা ভৌগোলিক কারণে যারা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন না, তারা এবার বাড়ি বসেই ভোট দিতে পারবেন। দীপক প্রসাদ জানান, ‘‘এই সুবিধা মূলত প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং পরিযায়ী ভোটারদের জন্য।’’
কীভাবে ভোট দেওয়া যাবে?
কমিশন সূত্রের খবর, এজন্য ভোটারদের ‘ই-এসইসি বিহার’ (e-SECBHR) অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। তবে এটি আপাতত শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমেই ব্যবহার করা যাবে। মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত থাকতে হবে। প্রতিটি মোবাইল নম্বর থেকে সর্বাধিক দু'জন ভোটার লগ ইন অর্থাৎ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
এই অ্যাপটি তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং (সিড্যাক)। পাশাপাশি, বিহার রাজ্য নির্বাচন কমিশনও একটি আলাদা অ্যাপ তৈরি করেছে।
কমিশন জানিয়েছে, ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ফেস ম্যাচিং এবং স্ক্যানিং পদ্ধতিও থাকবে। এছাড়া, ভোটের সুরক্ষার জন্য ভিভিপ্যাটের মতো ‘অডিট ট্রেল’ সিস্টেমও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।তবে যাদের অ্যান্ড্রয়েড ফোন নেই, তারা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন।
ইতিমধ্যেই প্রায় ১০,০০০ ভোটার এই সুবিধার জন্য আবেদন করেছেন। আশা করা হচ্ছে, অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আরও ৫০,০০০ ভোটার ভোট দেবেন।
বছর ঘুরলেই বাংলায় ভোট। বিহারে কমিশনের এহেন উদ্যোগ সামনে আসতেই বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে যে বিধানসভা ভোটেও কি এই উদ্যোগ নেওয়া হবে? এ ব্যাপারে কমিশন নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত পুরসভার ভোটে এই প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিহারের এই উদ্যোগ সফল হলে আগামীদিনে অন্য রাজ্যগুলিতেও এই প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নিতে পারে কমিশন।