একে একে খুলে যায় চারটি প্যারাস্যুট। প্যারাস্যুট খুলতেই ধীরে ধীরে জলপৃষ্ঠের দিকে নামতে থাকে মহাকাশযান। প্রশান্ত মহাসাগরের জলে নেমে যায় ‘ড্রাগন’।

শুভাংশু শুক্লা। গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 15 July 2025 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষ হল এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। পৃথিবীর দিকে ঘণ্টায় ২৮ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটে আসার পর অবশেষে মঙ্গলবার ভারতীয় সময় ঠিক দুপুর ৩টে ১ মিনিটে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করল স্পেসএক্সের মহাকাশযান ‘ড্রাগন’। সফলভাবে মিশন শেষ করে পৃথিবীতে ফিরলেন ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লা এবং তাঁর তিন সহযাত্রী।
ক্যাপসুলটি যখন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে পৌঁছয়, তখন সেখানে গভীর রাত। ফেরার ঠিক আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার সময় প্রচণ্ড ঘর্ষণ ও তাপের মুখোমুখি হয় ‘ড্রাগন’। তবে সবটাই ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। সেই তীব্রতার কারণেই ধীরে ধীরে কমে আসে ক্যাপসুলের গতি। এক সময় তা নেমে আসে ঘণ্টায় ২৪ কিলোমিটারে।
এরপর একে একে খুলে যায় চারটি প্যারাস্যুট। প্যারাস্যুট খুলতেই ধীরে ধীরে জলপৃষ্ঠের দিকে নামতে থাকে মহাকাশযান। প্রশান্ত মহাসাগরের জলে নেমে যায় ‘ড্রাগন’।
শুভাংশুদের অবতরণের আগে থেকেই সেখানে অপেক্ষায় ছিল স্পেস এক্সের উদ্ধারকারী জাহাজ ও টিম। ক্যাপসুল নামার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত তারা পৌঁছে যায় নির্ধারিত জায়গায়। জল থেকে ক্যাপসুলটিকে তুলে আনা হয় জাহাজে। সেখানেই ক্যাপসুলের দরজা খোলা হয় এবং একে একে বার করে আনা হয় চার মহাকাশচারীকে।
পৃথিবীতে পা রাখার পর প্রায় এক সপ্তাহ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে হবে চার মহাকাশচারীকে, যাতে তাঁদের শরীর আবার মাধ্যাকর্ষণের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
প্রায় তিন সপ্তাহ মহাকাশে কাটিয়ে আজ ফিরছেন ৩৯ বছর বয়সী শুভাংশু শুক্লা। এর আগে ১৯৮৪-তে রাকেশ শর্মা মাত্র ৭ দিন মহাকাশে কাটিয়েছিলেন। শুভাংশুই প্রথম ভারতীয় যিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গিয়ে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। ১৮ দিনে ১২.২ মিলিয়ন কিলোমিটার পথ ঘুরে মোট ২৮৮ বার দেখেছেন পৃথিবীকে। অর্থাৎ, পৃথিবী-চাঁদের দূরত্বের প্রায় ৩২ গুণ পথ অতিক্রম করেছেন তিনি।
অ্যাক্সিয়ম স্পেস সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, শুভাংশু ও তাঁর সহযাত্রীরা (মিশন কম্যান্ডার পেগি হুইটসন, স্লাভোস উজনানস্কি, তিবোর কাপু) গত ১৮ দিন ধরে মহাকাশে নানা বৈজ্ঞানিক কাজ করেছেন। শুভাংশু একাই সাতটি ভারত-কেন্দ্রিক মাইক্রোগ্র্যাভিটি পরীক্ষা করেন। এগুলি ভবিষ্যতের গ্রহ অভিযান বা বা চাঁদের বুকে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতিতে এই গবেষণাগুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।