ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ব্রিটেন বিশ্বের সেরা প্রতিভা আকর্ষণ করতে চাইলেও ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাদারদের জন্য নতুন ভিসার পথ খোলার পরিকল্পনা নেই, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর H-1B ভিসা নীতির পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 October 2025 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'দিনের ভারত সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার (Keir Starmer India visit)। আর এই দু'দিনে তাঁর মূল লক্ষ্য হবে নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement – FTA) থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা তোলা। ভিসা চুক্তি সম্প্রসারণের প্রশ্নে তিনি জানিয়েছেন, 'এটি আমাদের পরিকল্পনার অংশ নয়।' পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই সফর মূলত স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা (India UK trade deal) নেওয়ার জন্য।
স্টারমার বলেন, 'ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই এই চুক্তির সুবিধা গ্রহণ করছে। কিন্তু বিষয়টি ভিসা নয়।' তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, 'অভিবাসন নীতি নিয়ে ব্রিটেনের অবস্থান কড়া।'
এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ব্রিটেনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও রয়েছে। লেবার পার্টি বর্তমানে পপুলিস্ট 'রিফর্ম ইউকে' পার্টির সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার অভিবাসন নিয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছেন, বিশেষ করে সাম্প্রতিক প্রতিবাদগুলোকে সামনে রেখে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ব্রিটেন বিশ্বের সেরা প্রতিভা আকর্ষণ করতে চাইলেও ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাদারদের জন্য নতুন ভিসার পথ খোলার পরিকল্পনা নেই, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর H-1B ভিসা নীতির পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর সফরে ভিসা নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না।
স্টারমার জানান, ব্রিটেন-ভারত FTA চুক্তি শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য। ডিপোর্টেশন বা নিরাপত্তা নিয়ে তাদের কোনও উদ্বেগ নেই, কারণ দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই রিটার্ন চুক্তি আছে। তিনি আরও বলেন, 'আমরা দেখছি ভিসা এবং রিটার্ন চুক্তির মধ্যে কোনও সম্পর্ক থাকা উচিত কি না।' যোগ করেন, 'এটি শুধু একটি কাগজের টুকরো নয়, এটি উন্নতির জন্য একটি লঞ্চপ্যাড।' '২০২৮ সালের মধ্যে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে।', একথাও উল্লেখ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
বাণিজ্য প্রধান আলোচ্যসূচি
স্টারমার এক শতাধিক ব্রিটিশ ব্যবসা, সাংস্কৃতিক ও অ্যাকাডেমিক নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে সফরে যাচ্ছেন। দলের মধ্যে রয়েছেন BP, Rolls-Royce, BT, Diageo এবং Scotch Whisky Association-এর প্রতিনিধিরা।
তিন বছরের আলোচনার পর জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত এই FTA চুক্তি বিভিন্ন পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়েছে, যেমন টেক্সটাইল, গাড়ি এবং হুইস্কি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি ২০৪০ সালের মধ্যে ব্রিটেন-ভারত বাণিজ্য অন্তত ২৫.৫ বিলিয়ন ডলার (৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর্যন্ত বৃদ্ধি করবে।
ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই ভারতীয় বাজারে তাদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। British Airways ২০২৬ সালে লন্ডন–দিল্লি রুটে তৃতীয় দৈনিক ফ্লাইট চালু করার পরিকল্পনা করছে, আর Manchester Airport, IndiGo-এর সঙ্গে সরাসরি রুট চালু করছে। হুইস্কি শিল্পও লাভবান হবে, কারণ ভারতের হুইস্কির উপর কড়া আমদানি শুল্ক আগামী দশকে ধাপে ধাপে ১৫০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে নামবে।
স্টারমার বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করবেন। উভয় নেতার আলোচ্যসূচিতে চুক্তি কার্যকর করার সময়সীমা এবং নীতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।