ট্রাম্পের ভাষায়, 'এটাই শান্তির সময়' হলেও, বাস্তবে সেই শান্তি কতদূর বাস্তবায়িত হয়, সেটাই এখন দেখার।

ছবি- সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 22 June 2025 11:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তেহরানের আকাশে আমেরিকার যুদ্ধবিমান। ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে রবিবার ভোরে পর পর ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র, ফোর্ডো, নাতান্জ এবং ইসফাহান কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা। ঘটনার কথা ভারতীয় সময় ভোত সাড়ে ৫টা নাগাদ নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শেয়ার করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। প্রথমবারের জন্য ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করায় গোটা পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়েছে যুদ্ধের আশঙ্কা। যদিও হামলার পর শান্তির বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানিয়েছেন, 'আমাদের বীর সেনারা সফলভাবে ফোর্ডো-সহ মূল ঘাঁটিগুলিতে বোমা ফেলেছে। সব যুদ্ধবিমান এখন ইরানের আকাশসীমার বাইরে। প্রত্যেকেই নিরাপদে ঘরে ফিরছে। এটাই শান্তির সঠিক সময়।'
দু'দিন আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, এই যুদ্ধে আমেরিকার সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি দু’সপ্তাহ সময় নেবেন। কিন্তু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিচ্ছিল। দুই দেশেই বাড়ছিল প্রাণহানির সংখ্যা। শুক্রবার ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে নষ্ট করলেও তার ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন লাগে ইজরায়েলের একাধিক জায়গায়। মাইক্রোসফট-সহ বহু আন্তর্জাতিক কম্পানির অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই পরিস্থিতি জটিল হচ্ছিল দু'দেশের সম্পর্ক। আরও খারাপ কিছু হওয়ার আগে রণনীতি বদলে ফেললেন ট্রাম্প।
কোন কোন পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করল আমেরিকা?
ফোর্ডো ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্ল্যান্ট
তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে ১০০ কিমি দূরে পাহাড়ের ভিতরে গোপনে তৈরি হয়েছিল ফোর্ডো পরমাণু কেন্দ্রটি। ২০০৯ সালে পশ্চিমি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এর অস্তিত্ব ফাঁস করার পর তা আন্তর্জাতিক নজরদারির আওতায় আসে। প্রায় ৩ হাজার সেন্ট্রিফিউজ ছিল এই কেন্দ্রে। বর্তমানে এখানে আইআর-৬ ধরনের উন্নত সেন্ট্রিফিউজ চালু রয়েছে, যা দিয়ে ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হয়। আমেরিকা ছাড়া অন্য কোনও দেশের অস্ত্রভাণ্ডারে এত গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা নেই বলেই মনে করা হয়।
নাতান্জ নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটি
তেহরানের দক্ষিণ-পূর্বে ২২০ কিমি দূরে অবস্থিত এই কেন্দ্রকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়। ইজরায়েল এর আগেই এই কেন্দ্রের উপর হামলা চালিয়ে বহু সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস করেছিল। এবার ফের আক্রমণ। এটিও বেশ কিছুটা অংশ ভূগর্ভে থাকার কারণে এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।
ইসফাহান নিউক্লিয়ার সেন্টার
১৯৮৪ সালে চিনের সহায়তায় তৈরি এই গবেষণাগারে ৩ হাজারেরও বেশি বিজ্ঞানী কাজ করেন। এটি ইরানের অন্যতম বড় পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র। ইউরেনিয়াম রূপান্তর প্রকল্প ও জ্বালানি নির্মাণ প্ল্যান্ট রয়েছে এখানে। শনিবার রাতে আমেরিকা এই কেন্দ্রের বিভিন্ন ভবনে বোমা ফেলে, যার মধ্যে একটি ইউরেনিয়াম রূপান্তর ইউনিটও ছিল।
আক্রমণের পরের পরিস্থিতি
এত বড়সড় হামলা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা IAEA জানিয়েছে, ইরানের কোনও কেন্দ্রে রেডিয়েশন ছড়ানোর প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে হামলার পরে ইরান-পন্থী গোষ্ঠীগুলি এবং ইরানের সেনা কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেদিকেই নজর দিচ্ছে বিশ্ব।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এমনিতেই উত্তপ্ত ছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে ইজরায়েল ও ইরান পরস্পরকে লক্ষ্য করে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। শুক্রবার ইজরায়েলের হামলায় ইরানের চার শীর্ষ সেনা এবং ন’জন পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যুর দাবি ঘিরেই পরিস্থিতি আরও চরমে ওঠে। এখন তৃতীয় শক্তি হিসেবে আমেরিকা সরাসরি মাঠে নামায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হল বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।
ট্রাম্পের ভাষায়, 'এটাই শান্তির সময়' হলেও, বাস্তবে সেই শান্তি কতদূর বাস্তবায়িত হয়, সেটাই এখন দেখার।