এই হামলা আমেরিকার দিক থেকে ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ, যা ইজরায়েল-ইরান সংঘাতকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।

শেষ আপডেট: 22 June 2025 09:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘পশ্চিম এশিয়ার দাদাগিরি আর চলবে না’ - এমন ভাষাতেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে আমেরিকার সফল বিমান হামলার ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার রাতে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘ফোর্ডো, নাতানজ এবং ইসফাহানের উপর সমন্বিত হামলায় ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। এটি একটি ‘উল্লেখযোগ্য সামরিক সাফল্য’।’
হোয়াইট হাউস থেকে মাত্র তিন মিনিটের এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান, যাকে ‘পশ্চিম এশিয়ার দাদা’ বলা যায়, তারা এখনই শান্তি স্থাপনের ঘোষণা করুক। যদি তারা না করে, ভবিষ্যতের হামলা আরও ভয়াবহ হবে এবং তা আমাদের পক্ষে অনেক সহজ হবে। মনে রাখবেন, আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু বাকি আছে। আজ রাতের লক্ষ্য ছিল সবচেয়ে কঠিন এবং সম্ভবত সবচেয়ে প্রাণঘাতী।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা ধ্বংস করা এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাস-সমর্থনকারী রাষ্ট্রের পরমাণু হুমকি বন্ধ করা। আজ আমি বিশ্বকে জানাতে পারি, আমরা সম্পূর্ণ সফল হয়েছি। ইরানের প্রধান পরমাণু কেন্দ্রগুলি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে।’
ট্রাম্প তাঁর ভাষণে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে এমনভাবে কাজ করেছি, যা এর আগে কেউ দেখেনি। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী অসাধারণ কাজ করেছে।’
এই হামলা আমেরিকার দিক থেকে ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ, যা ইজরায়েল-ইরান সংঘাতকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, ইরানের ফোর্ডো-তে ছ’টি বাংকার-বাস্টার বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং নাতানজ ও ইসফাহানে ৩০টি টমাহক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, হামলার আগের দিনই ইরানের কাছে আমেরিকা তার কূটনৈতিক মতামত স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, এই হামলা সীমিত এবং ‘রেজিম চেঞ্জ’ এর লক্ষ্য নয়।
সূত্র মারফত জানা গেছে, ফোর্ডোতে হামলার দায়িত্বে ছিল B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান, যারা “ফুল পে-লোড” বা সম্পূর্ণ বোমার ভার বহন করেছিল।
ট্রাম্প পরে ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘ফোর্ডোতে সম্পূর্ণ পে-লোড বর্ষণ করা হয়েছে। ফোর্ডো আর নেই।’
অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের দোলাচল কাটিয়ে ট্রাম্পের সাহসী ঘোষণা বলে মনে করা হচ্ছে। হামলার আগে হোয়াইট হাউসে দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ বিতর্ক চলছিল। শেষ পর্যন্ত নিজের নির্ধারিত দু’সপ্তাহের সময়সীমার আগেই ট্রাম্প এই অভিযান চালান, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক অজানা গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে।